ডিআরএম মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে কমিশন ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৫:১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
বিশেষ প্রতিবেদক :
অগ্রিম ঘুষ বা কমিশন ছাড়া ফাইলে স্বাক্ষর করেন না—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞার বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট সূত্র এ অভিযোগ করেছেন।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম রেলওয়ে ডিভিশনের যেকোনো ধরনের ঠিকাদারি বিল, প্রশাসনিক আদেশ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে স্বাক্ষর পেতে হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ২ শতাংশ কমিশন দিতে হয়। কমিশন পরিশোধ না করলে ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘুরতে ঘুরতে শেষ পর্যন্ত অদৃশ্য এক দেয়ালে আটকে যায়।ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও তাঁদের জানানো হয়—“প্রক্রিয়া চলছে।” কিন্তু সেই প্রক্রিয়া কার্যত থেমে থাকে যতক্ষণ না কমিশনের হিসাব মেলে। কেউ কেউ এটিকে অলিখিত নিয়ম হিসেবে মেনে নিলেও, যারা প্রতিবাদ করেন তাঁদের ফাইল দিনের পর দিন, এমনকি মাসের পর মাস ঝুলে থাকে।
অভিযোগকারীরা বলেন, এই কমিশন বাণিজ্য এখন শুধু ব্যক্তিগত লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পুরো দপ্তরজুড়ে এক ধরনের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। নিচু স্তর থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন পর্যায় পর্যন্ত সবারই নাকি ভাগ নির্ধারিত থাকায় দায়বদ্ধতাও ঘুরে ফিরে অস্পষ্ট থেকে যায়।সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই অনিয়মের সরাসরি প্রভাব পড়ছে জনস্বার্থে। রেললাইনের রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়ন প্রকল্প ও সময়মতো কাজ শেষ—সবই কমিশননির্ভর ব্যবস্থার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ। তবে প্রতিশোধের ভয়ে ভুক্তভোগীরা নাম প্রকাশ করতে সাহস পাচ্ছেন না, ফলে অভিযোগগুলো থেকে যাচ্ছে কথিত পর্যায়েই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, ডিআরএম হিসেবে যোগদানের আগেও মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞার বিরুদ্ধে পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানায় অনিয়মের অভিযোগ ছিল। সে সময় তিনি বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (কারখানা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর পছন্দের ঠিকাদার ছাড়া অন্য কেউ কাজ পাওয়ার সুযোগ পেতেন না।যন্ত্রাংশ ক্রয়ের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৭ শতাংশ কমিশনের বিনিময়ে ‘নির্দিষ্ট’ ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হতো। এমনকি যন্ত্রাংশ পরীক্ষার ক্ষেত্রেও ২ শতাংশ কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে অনেক সময় নিম্নমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করতে বাধ্য হতেন ঠিকাদাররা।সূত্র জানায়, পাহাড়তলী কারখানায় যন্ত্রাংশ সরবরাহের বড় একটি অংশ একচেটিয়াভাবে পেয়েছে ‘ভুঁইয়া এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মালিক একরামুল করিম রাসেল এবং তাঁর সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ। উভয়ের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা।
অভিযোগ অনুযায়ী, পাহাড়তলী কারখানার প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজগুলোও মূলত কুমিল্লা ও আশপাশের জেলার কয়েকজন ঠিকাদার পেয়েছেন, যাদের সঙ্গে ডিআরএমের ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে জানা গেছে।বিষয়ে জানতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞার সঙ্গে তার অফিসিয়াল নম্বরে এবং হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগ এর চেষ্টা করেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এই নিউজ এর ব্যাপারে পরবর্তীতে তিনি কোন বক্তব্য দিলে যুক্ত করা হবে।





















