ঢাকা ০১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদারীপুরের ৩২৬ কোটি টাকার RIVER প্রকল্পে দরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন?? নাটের গুরু আতিকুল!!

  • আপডেট সময় : ০৭:০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

সানি রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি :
মাদারীপুরে প্রায় ৩২৬ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদার নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্র মূল্যায়নের বিভিন্ন ধাপে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দর সংশোধনের সুযোগ এবং কারিগরি মূল্যায়নে নম্বর প্রদানের বিষয়টি নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
সরকারের Resilient Infrastructure for Adaptation and Vulnerability Reduction (RIVER) প্রকল্পের আওতায় মাদারীপুর জেলায় ৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়-কাম-ফ্লাড শেল্টার নির্মাণ, স্ট্রিট লাইট স্থাপন, বজ্রপাত প্রতিরোধব্যবস্থা, সংযোগ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৩২৬ কোটি টাকা।
দরপত্রে মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। প্রাপ্ত আর্থিক প্রস্তাব অনুযায়ী সবচেয়ে কম দর প্রস্তাব করে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং, যার দর ছিল ৩২২ কোটি টাকার কিছু বেশি। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দর দেয় মীর আখতার হোসেন লিমিটেড, ৩২৬ কোটি টাকার কিছু বেশি। এরপর আরএইচ জয়েন্ট ভেঞ্চার ৩৩৯ কোটি টাকার বেশি, এম জামাল অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড ৩৫১ কোটি টাকার বেশি এবং ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন ৩৭৪ কোটি টাকার বেশি দর প্রস্তাব করে।
অর্থাৎ প্রাথমিক আর্থিক মূল্যায়নে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের অবস্থান ছিল পঞ্চম।
তবে পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে দর সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়। সংশোধিত দর হিসেবে তারা প্রায় ৩২৬ কোটি টাকার প্রস্তাব জমা দেয় বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা যায়। এর ফলে আর্থিক মূল্যায়নে পঞ্চম অবস্থান থেকে প্রতিষ্ঠানটি দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে।
দর সংশোধনের বিষয়টি নিয়েই মূলত প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দরপত্র সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণত ১ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে পরিবর্তনের নজির থাকলেও এই ক্ষেত্রে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের সংশোধিত দর প্রায় ১৩ শতাংশ কমে যায়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক মূল্যায়নে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে যায়।
কারিগরি মূল্যায়নেও বড় ব্যবধান: দরপত্র মূল্যায়নের পরবর্তী ধাপে কারিগরি প্রস্তাবের নম্বর প্রকাশের পর আরও প্রশ্ন দেখা দেয়।
কারিগরি মূল্যায়নে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনকে ১০০-এর মধ্যে ১০০ নম্বর দেওয়া হয়। অন্যদিকে আর্থিক প্রস্তাবে সর্বনিম্ন দরদাতা ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং পায় ৮৬.০২ নম্বর। মীর আখতার হোসেন লিমিটেড পায় ৯৪.০৯ নম্বর এবং আরএইচ জয়েন্ট ভেঞ্চার পায় ৯৭.৫৮ নম্বর।
একটি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি প্রস্তাবে পূর্ণ ১০০ নম্বর পাওয়া সাধারণ মূল্যায়নের তুলনায় ব্যতিক্রমী হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আর্থিক প্রস্তাবে শুরুতে পঞ্চম অবস্থানে থাকা একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে কারিগরি মূল্যায়নে পূর্ণ নম্বর পেল, তা নিয়ে ব্যাখ্যা চাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
দরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুযায়ী, চূড়ান্ত মূল্যায়নে কারিগরি প্রস্তাবের জন্য নির্ধারিত ছিল ২০ শতাংশ এবং আর্থিক প্রস্তাবের জন্য ৮০ শতাংশ নম্বর।
কারিগরি ও আর্থিক নম্বর একত্র করার পর দেখা যায়, ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন ৯৯.২৩ নম্বর পেয়ে প্রথম, মীর আখতার হোসেন লিমিটেড ৯৭.৯৯ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় এবং আর্থিক প্রস্তাবে সর্বনিম্ন দরদাতা ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং ৯৭.২০ নম্বর পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
ফলে প্রাথমিক আর্থিক দরপত্রের ফলাফল এবং চূড়ান্ত মূল্যায়নের ফলাফলের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।
শুরুতে ৩৭৪ কোটি টাকার বেশি দর দিয়ে আর্থিক মূল্যায়নে পঞ্চম অবস্থানে থাকা ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন দর সংশোধনের পর প্রায় ৩২৬ কোটি টাকায় নেমে দ্বিতীয় অবস্থানে আসে। পরে কারিগরি মূল্যায়নে ১০০ নম্বর পাওয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত মূল্যায়নে প্রথম স্থান অর্জন করে।
উঠছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
দরপত্রের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে এখন কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
প্রথমত, প্রায় ১৩ শতাংশ দর কমিয়ে দেওয়া সংশোধিত প্রস্তাব গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ক্রয়বিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না?
দ্বিতীয়ত, কারিগরি মূল্যায়নে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনকে পূর্ণ ১০০ নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন কোন নির্ধারিত মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়েছে?
তৃতীয়ত, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যেখানে ৮৬.০২, ৯৪.০৯ ও ৯৭.৫৮ নম্বর পেয়েছে, সেখানে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন কী কারণে পূর্ণ নম্বর পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হয়েছে?

প্রকল্প পরিচালক ও মূল্যায়ন কমিটির বক্তব্য
দরপত্র মূল্যায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে প্রকল্পটির পরিচালক এবং দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
একই সঙ্গে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির অন্যান্য সদস্যদের কাছেও ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনকে কারিগরি মূল্যায়নে পূর্ণ ১০০ নম্বর দেওয়ার কারণ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় নম্বরের এই ব্যবধানের বিষয়ে জানতে চাওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় দরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখা এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কোনো একটি প্রতিষ্ঠানকে কারিগরি মূল্যায়নে অস্বাভাবিকভাবে বেশি নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা দর সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রায় ৩২৬ কোটি টাকার সরকারি অর্থ জড়িত থাকায় প্রকল্পটির ঠিকাদার নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। পুরো দরপত্র প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক এবং নির্ধারিত বিধিমালা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মাদারীপুরের ৩২৬ কোটি টাকার RIVER প্রকল্পে দরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন?? নাটের গুরু আতিকুল!!

আপডেট সময় : ০৭:০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সানি রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি :
মাদারীপুরে প্রায় ৩২৬ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদার নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্র মূল্যায়নের বিভিন্ন ধাপে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দর সংশোধনের সুযোগ এবং কারিগরি মূল্যায়নে নম্বর প্রদানের বিষয়টি নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
সরকারের Resilient Infrastructure for Adaptation and Vulnerability Reduction (RIVER) প্রকল্পের আওতায় মাদারীপুর জেলায় ৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়-কাম-ফ্লাড শেল্টার নির্মাণ, স্ট্রিট লাইট স্থাপন, বজ্রপাত প্রতিরোধব্যবস্থা, সংযোগ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৩২৬ কোটি টাকা।
দরপত্রে মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। প্রাপ্ত আর্থিক প্রস্তাব অনুযায়ী সবচেয়ে কম দর প্রস্তাব করে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং, যার দর ছিল ৩২২ কোটি টাকার কিছু বেশি। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দর দেয় মীর আখতার হোসেন লিমিটেড, ৩২৬ কোটি টাকার কিছু বেশি। এরপর আরএইচ জয়েন্ট ভেঞ্চার ৩৩৯ কোটি টাকার বেশি, এম জামাল অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড ৩৫১ কোটি টাকার বেশি এবং ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন ৩৭৪ কোটি টাকার বেশি দর প্রস্তাব করে।
অর্থাৎ প্রাথমিক আর্থিক মূল্যায়নে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের অবস্থান ছিল পঞ্চম।
তবে পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে দর সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়। সংশোধিত দর হিসেবে তারা প্রায় ৩২৬ কোটি টাকার প্রস্তাব জমা দেয় বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা যায়। এর ফলে আর্থিক মূল্যায়নে পঞ্চম অবস্থান থেকে প্রতিষ্ঠানটি দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে।
দর সংশোধনের বিষয়টি নিয়েই মূলত প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দরপত্র সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণত ১ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে পরিবর্তনের নজির থাকলেও এই ক্ষেত্রে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের সংশোধিত দর প্রায় ১৩ শতাংশ কমে যায়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক মূল্যায়নে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে যায়।
কারিগরি মূল্যায়নেও বড় ব্যবধান: দরপত্র মূল্যায়নের পরবর্তী ধাপে কারিগরি প্রস্তাবের নম্বর প্রকাশের পর আরও প্রশ্ন দেখা দেয়।
কারিগরি মূল্যায়নে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনকে ১০০-এর মধ্যে ১০০ নম্বর দেওয়া হয়। অন্যদিকে আর্থিক প্রস্তাবে সর্বনিম্ন দরদাতা ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং পায় ৮৬.০২ নম্বর। মীর আখতার হোসেন লিমিটেড পায় ৯৪.০৯ নম্বর এবং আরএইচ জয়েন্ট ভেঞ্চার পায় ৯৭.৫৮ নম্বর।
একটি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি প্রস্তাবে পূর্ণ ১০০ নম্বর পাওয়া সাধারণ মূল্যায়নের তুলনায় ব্যতিক্রমী হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আর্থিক প্রস্তাবে শুরুতে পঞ্চম অবস্থানে থাকা একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে কারিগরি মূল্যায়নে পূর্ণ নম্বর পেল, তা নিয়ে ব্যাখ্যা চাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
দরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুযায়ী, চূড়ান্ত মূল্যায়নে কারিগরি প্রস্তাবের জন্য নির্ধারিত ছিল ২০ শতাংশ এবং আর্থিক প্রস্তাবের জন্য ৮০ শতাংশ নম্বর।
কারিগরি ও আর্থিক নম্বর একত্র করার পর দেখা যায়, ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন ৯৯.২৩ নম্বর পেয়ে প্রথম, মীর আখতার হোসেন লিমিটেড ৯৭.৯৯ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় এবং আর্থিক প্রস্তাবে সর্বনিম্ন দরদাতা ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং ৯৭.২০ নম্বর পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
ফলে প্রাথমিক আর্থিক দরপত্রের ফলাফল এবং চূড়ান্ত মূল্যায়নের ফলাফলের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।
শুরুতে ৩৭৪ কোটি টাকার বেশি দর দিয়ে আর্থিক মূল্যায়নে পঞ্চম অবস্থানে থাকা ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন দর সংশোধনের পর প্রায় ৩২৬ কোটি টাকায় নেমে দ্বিতীয় অবস্থানে আসে। পরে কারিগরি মূল্যায়নে ১০০ নম্বর পাওয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত মূল্যায়নে প্রথম স্থান অর্জন করে।
উঠছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
দরপত্রের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে এখন কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
প্রথমত, প্রায় ১৩ শতাংশ দর কমিয়ে দেওয়া সংশোধিত প্রস্তাব গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ক্রয়বিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না?
দ্বিতীয়ত, কারিগরি মূল্যায়নে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনকে পূর্ণ ১০০ নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন কোন নির্ধারিত মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়েছে?
তৃতীয়ত, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যেখানে ৮৬.০২, ৯৪.০৯ ও ৯৭.৫৮ নম্বর পেয়েছে, সেখানে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন কী কারণে পূর্ণ নম্বর পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হয়েছে?

প্রকল্প পরিচালক ও মূল্যায়ন কমিটির বক্তব্য
দরপত্র মূল্যায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে প্রকল্পটির পরিচালক এবং দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
একই সঙ্গে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির অন্যান্য সদস্যদের কাছেও ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনকে কারিগরি মূল্যায়নে পূর্ণ ১০০ নম্বর দেওয়ার কারণ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় নম্বরের এই ব্যবধানের বিষয়ে জানতে চাওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় দরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখা এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কোনো একটি প্রতিষ্ঠানকে কারিগরি মূল্যায়নে অস্বাভাবিকভাবে বেশি নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা দর সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রায় ৩২৬ কোটি টাকার সরকারি অর্থ জড়িত থাকায় প্রকল্পটির ঠিকাদার নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। পুরো দরপত্র প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক এবং নির্ধারিত বিধিমালা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।