ঢাকা ০১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপালী ব্যাংকের পদোন্নতির তালিকায় বিতর্কিত ও ফ্যাসিবাদ ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা আবু হানিফ

  • আপডেট সময় : ০৭:১৩:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন, জবাবদিহি এবং বৈষম্যহীনতার দাবি জোরালো হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে পুরোনো সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তির অভিযোগ উঠেছে। সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক লবিং ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিতর্কিত এক কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বদলে উল্টো পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার নথিপত্র হাতে এসেছে।
​রূপালী ব্যাংক পিএলসির প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের গত ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখের একটি অফিস আদেশ (স্মারক নং: প্রকা/পপ্র/ডিজিএম(আইটি)/২০২৬/১৪৪) অনুযায়ী, সহকারী মহাব্যবস্থাপক (আইটি) থেকে উপমহাব্যবস্থাপক (আইটি) পদে পদোন্নতির জন্য একটি সাক্ষাৎকার বোর্ড গঠিত হয়। ওই আদেশের তালিকাভুক্ত প্রার্থীর মধ্যে ২ নম্বরে নাম রয়েছে মো: আবু হানিফ নামের এক কর্মকর্তার, যিনি বর্তমানে বৈদেশিক বাণিজ্য করপোরেট শাখায় কর্মরত।
​অনুসন্ধানে জানা যায়, অতীতে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহারের নানা অভিযোগ উঠলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান বিভাগীয় তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো গত ৩ মার্চ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বোর্ড রুমে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাকে পদোন্নতির দৌড়ে এগিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রামাণ্য নথিতে দেখা যায়, অতীতে ব্যাংকটির বিভিন্ন রাজনৈতিক ও দলীয় কর্মসূচিতে এই কর্মকর্তা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। বিশেষ করে বিগত সরকারের আমলে তৎকালীন শীর্ষ নেতৃত্বের বিভিন্ন কর্মসূচিতে দলীয় ব্যানারে তার সরব উপস্থিতি এবং পর্ষদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার চিত্র বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষিত রয়েছে।
​ব্যাংকের নিজস্ব বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানবসম্পদ বিভাগ ও প্রশাসন পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, সততা ও সার্ভিস রেকর্ড যাচাই করার কথা থাকলেও এই ক্ষেত্রে সেই মানদণ্ড কতটা মানা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলে, সেখানে দুর্নীতির অভিযোগের মুখে থাকা ব্যক্তিদের এভাবে ছাড় দেওয়া প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
​এ বিষয়ে রূপালী ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ কিংবা অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো: আবু হানিফের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ বিচার ও সার্ভিস রেকর্ড পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই না করে এ ধরনের পদোন্নতি ব্যাংক খাতে নতুন অসন্তোষ ও আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রূপালী ব্যাংকের পদোন্নতির তালিকায় বিতর্কিত ও ফ্যাসিবাদ ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা আবু হানিফ

আপডেট সময় : ০৭:১৩:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন, জবাবদিহি এবং বৈষম্যহীনতার দাবি জোরালো হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে পুরোনো সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তির অভিযোগ উঠেছে। সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক লবিং ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিতর্কিত এক কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বদলে উল্টো পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার নথিপত্র হাতে এসেছে।
​রূপালী ব্যাংক পিএলসির প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের গত ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখের একটি অফিস আদেশ (স্মারক নং: প্রকা/পপ্র/ডিজিএম(আইটি)/২০২৬/১৪৪) অনুযায়ী, সহকারী মহাব্যবস্থাপক (আইটি) থেকে উপমহাব্যবস্থাপক (আইটি) পদে পদোন্নতির জন্য একটি সাক্ষাৎকার বোর্ড গঠিত হয়। ওই আদেশের তালিকাভুক্ত প্রার্থীর মধ্যে ২ নম্বরে নাম রয়েছে মো: আবু হানিফ নামের এক কর্মকর্তার, যিনি বর্তমানে বৈদেশিক বাণিজ্য করপোরেট শাখায় কর্মরত।
​অনুসন্ধানে জানা যায়, অতীতে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহারের নানা অভিযোগ উঠলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান বিভাগীয় তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো গত ৩ মার্চ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বোর্ড রুমে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাকে পদোন্নতির দৌড়ে এগিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রামাণ্য নথিতে দেখা যায়, অতীতে ব্যাংকটির বিভিন্ন রাজনৈতিক ও দলীয় কর্মসূচিতে এই কর্মকর্তা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। বিশেষ করে বিগত সরকারের আমলে তৎকালীন শীর্ষ নেতৃত্বের বিভিন্ন কর্মসূচিতে দলীয় ব্যানারে তার সরব উপস্থিতি এবং পর্ষদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার চিত্র বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষিত রয়েছে।
​ব্যাংকের নিজস্ব বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানবসম্পদ বিভাগ ও প্রশাসন পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, সততা ও সার্ভিস রেকর্ড যাচাই করার কথা থাকলেও এই ক্ষেত্রে সেই মানদণ্ড কতটা মানা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলে, সেখানে দুর্নীতির অভিযোগের মুখে থাকা ব্যক্তিদের এভাবে ছাড় দেওয়া প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
​এ বিষয়ে রূপালী ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ কিংবা অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো: আবু হানিফের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ বিচার ও সার্ভিস রেকর্ড পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই না করে এ ধরনের পদোন্নতি ব্যাংক খাতে নতুন অসন্তোষ ও আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।