পুরোনো অভিযোগ পুনঃপ্রচারের প্রতিবাদ রেলওয়ে কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ারুল ইসলামের: উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার দাবি
- আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
বিডি এডিটরস ডেস্ক
বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে প্রকাশিত ও পরবর্তীতে মীমাংসিত কিছু অভিযোগ নতুন করে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দাবি, তাঁর পূর্ববর্তী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ উপেক্ষা করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব ভিত্তিহীন তথ্য আবার সামনে আনছে। সংবাদ প্রকাশের আগে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ যাচাই এবং পেশাদার সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে কিছু সংবাদমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমগুলোর কাছে লিখিত ব্যাখ্যা ও প্রমাণাদি উপস্থাপন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম তাদের প্রতিবেদন প্রত্যাহার ও সংশোধন করে নেয়। অথচ সম্প্রতি পুরোনো ওই তথ্যগুলোকেই নতুন মোড়কে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক পেজে প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।
পেশাগত অভিজ্ঞতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা
বর্তমানে প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল ইসলাম পাহাড়তলীতে বাংলাদেশ রেলওয়ের সরঞ্জাম বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সফলতার সঙ্গে পরিচালক (ইনভেন্টরি কন্ট্রোল) এবং অতিরিক্ত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে রেলওয়ের সরঞ্জাম সংগ্রহ, লোকোমোটিভ ও যাত্রীবাহী কোচের রক্ষণাবেক্ষণ যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং মজুত ব্যবস্থাপনায় তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা রয়েছে।
সরকারি বৃত্তির আওতায় তিনি যুক্তরাজ্যের চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড সাপ্লাই (CIPS) থেকে প্রফেশনাল ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া পরিচালক (ইনভেন্টরি কন্ট্রোল) থাকাকালীন রেলওয়েতে আধুনিক ‘ডিজিটাল ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চালুর ক্ষেত্রেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
অভিযোগের বিপরীতে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য ও অনুসন্ধানের তথ্য
রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবিরের অভিযোগ: সাবেক এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নেওয়ার যে দাবি তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এই কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র ও তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তাব্যেও তার কোনো ধরনের রাজনৈতিক তদবিরের প্রমাণ মেলেনি। এছাড়া চট্টগ্রাম রেলওয়ে ও সিআরবির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় সাংবাদিক ও নিয়মিত সরবরাহকারীদের সঙ্গে কথা বলেও ‘মিষ্টি বিতরণ’ বিষয়ে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তৎকালীন পত্রপত্রিকা পর্যালোচনাতেও এ সংক্রান্ত কোনো তথ্যের অস্তিত্ব মেলেনি।
একাধিক পদে দায়িত্ব পালন: ব্যক্তিগত তদবিরে একাধিক পদ আঁকড়ে রাখার অভিযোগ প্রসঙ্গে আনোয়ারুল ইসলাম জানান, রেলওয়ের সরঞ্জাম বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র কর্মকর্তা সংকট চলছে। প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সচল রাখতে প্রশাসনিক প্রয়োজনেই কর্তৃপক্ষ তাঁকে অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করে। বর্তমানেও সরঞ্জাম বিভাগে তীব্র লোকবল সংকট থাকায় একাধিক কর্মকর্তাকে দুই থেকে তিনটি পদের কাজ সামলাতে হচ্ছে।
সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া ও আরপিও (RPO): সরকারি ক্রয় ও সরঞ্জাম সংগ্রহের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (PPA) এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (PPR) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ক্রয় প্রক্রিয়া কোনো একক ব্যক্তির ইচ্ছায় সম্পন্ন হয় না; এটি বিভিন্ন কমিটির পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন, সুপারিশ এবং নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে চুক্তি সম্পাদন ও পরিদর্শন শেষে হিসাব বিভাগ কর্তৃক মূল্য পরিশোধিত হয়। এছাড়া ‘রিভাইজড প্রসিডিউর অর্ডার’ (RPO) সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণী আদেশ প্রণয়ন বা সংশোধনের একক এখতিয়ার সংস্থা প্রধান তথা মহাপরিচালক বা তাঁর মনোনীত কর্মকর্তার এবং বিভাগীয় প্রধানের দপ্তর হতে তার নথি প্রক্রিয়া করা হয়। আলোচ্য কর্ম কর্তা দপ্তর প্রধান বা বিভাগীয় প্রধান না হওয়ায় নীতিগত সিদ্ধান্তের দায় তার ওপর চাপানো অযৌক্তিক।
পেশাদার সাংবাদিকতার আহ্বান
প্রতিবাদলিপিতে প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান প্রতিবেদন, প্রাতিষ্ঠানিক নথি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার মৌলিক শর্ত। তথ্য যাচাই না করে একতরফা নেতিবাচক প্রচারণা কোনো দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অংশ হতে পারে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।



















