ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আদালতে ভিড়ে নাজেহাল শিরীন শারমিন

  • আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

জুলাই আন্দোলনের লালবাগ থানায় আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২ দিনের রিমান্ড শুনানি শুরু হয়েছে। হাজতখানা থেকে এজলাসে তোলার সময় সাংবাদিক, উৎসুক আইনজীবী ও পুলিশের ভিড়ে ঠেলাঠেলিতে নাজেহাল হতে দেখা গেছে দেশের প্রথম এ নারী স্পিকারকে।

মঙ্গলবার (০৮ এপ্রিল) দুপুর ১ টার ৫৬ মিনিটের দিকে একটি সাদা মাইক্রোতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয় শিরীন শারমিনকে। এরপর আদালতের হাতখানায় রাখা হয়। এদিকে শিরীন শারমিনের ২ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছেন লালবাগ জোনের কোতোয়ালী জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহসীন উদ্দীন। পরে তিনটা ১০ মিনিটের দিকে হাজতখানা থেকে এজলাসে তোলা হয়। এসময় প্রচন্ড ভিড়ে নাজেহাল হন শিরীন শারমিন। বর্তমানে রিমান্ড শুনানি চলছে।

গ্রেপ্তারের পর ডিবি জানিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিলেন শিরীন শারমিন। সর্বশেষ তিনি ধানমন্ডিতে এক আত্মীয়ের বাসায় ছিলেন। সেখান থেকেই তাকে আজ মঙ্গলবার ভোরে আটক করা হয়।

শিরীন শারমিনের মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে লালবাগের আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলনকারী আন্দোলন করছিল। সেখানে দেশী-বিদেশী অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালোনা হয়। একটি গুলি আশরাফুল ওরফে ফাহিমের চোখে লাগে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ মে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ১১৫/১২০ জনকে আসামি করে মামলা করেন আশরাফুল।

এদিকে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যা মামলাসহ ৬টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় ইতিমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি তিনটি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন।

এদিকে গণ–অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অনেকেই সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গত বছরের ২২ মে আশ্রয় গ্রহণকারীদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল। ওই তালিকায় শিরীন শারমিনের নামও ছিল।

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের ২৭ দিনের মাথায় ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর স্পিকার নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হলে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। এর পর থেকে টানা তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন।

২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হককেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আদালতে ভিড়ে নাজেহাল শিরীন শারমিন

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই আন্দোলনের লালবাগ থানায় আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২ দিনের রিমান্ড শুনানি শুরু হয়েছে। হাজতখানা থেকে এজলাসে তোলার সময় সাংবাদিক, উৎসুক আইনজীবী ও পুলিশের ভিড়ে ঠেলাঠেলিতে নাজেহাল হতে দেখা গেছে দেশের প্রথম এ নারী স্পিকারকে।

মঙ্গলবার (০৮ এপ্রিল) দুপুর ১ টার ৫৬ মিনিটের দিকে একটি সাদা মাইক্রোতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয় শিরীন শারমিনকে। এরপর আদালতের হাতখানায় রাখা হয়। এদিকে শিরীন শারমিনের ২ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছেন লালবাগ জোনের কোতোয়ালী জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহসীন উদ্দীন। পরে তিনটা ১০ মিনিটের দিকে হাজতখানা থেকে এজলাসে তোলা হয়। এসময় প্রচন্ড ভিড়ে নাজেহাল হন শিরীন শারমিন। বর্তমানে রিমান্ড শুনানি চলছে।

গ্রেপ্তারের পর ডিবি জানিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিলেন শিরীন শারমিন। সর্বশেষ তিনি ধানমন্ডিতে এক আত্মীয়ের বাসায় ছিলেন। সেখান থেকেই তাকে আজ মঙ্গলবার ভোরে আটক করা হয়।

শিরীন শারমিনের মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে লালবাগের আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলনকারী আন্দোলন করছিল। সেখানে দেশী-বিদেশী অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালোনা হয়। একটি গুলি আশরাফুল ওরফে ফাহিমের চোখে লাগে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ মে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ১১৫/১২০ জনকে আসামি করে মামলা করেন আশরাফুল।

এদিকে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যা মামলাসহ ৬টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় ইতিমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি তিনটি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন।

এদিকে গণ–অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অনেকেই সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গত বছরের ২২ মে আশ্রয় গ্রহণকারীদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল। ওই তালিকায় শিরীন শারমিনের নামও ছিল।

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের ২৭ দিনের মাথায় ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর স্পিকার নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হলে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। এর পর থেকে টানা তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন।

২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হককেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।