ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদেশি সফটওয়্যার কেনার আড়ালে অর্থ পাচারের শঙ্কা: ব্যাংক খাতে নতুন উদ্বেগ

  • আপডেট সময় : ০৮:৩৮:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিদেশি কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার (Core Banking Software-CBS) ক্রয়, লাইসেন্স নবায়ন এবং বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির (AMC) আড়ালে অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে দেশের ব্যাংকিং খাত। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিমূল্য নির্ধারণ (Over-invoicing), অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ক্রয়, ভুয়া লাইসেন্স নবায়ন এবং মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর—এসব পদ্ধতি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম সাধারণত চারটি উপায়ে সংঘটিত হয়। প্রথমত, কোনো সফটওয়্যারের প্রকৃত মূল্য অপেক্ষা কয়েক গুণ বেশি মূল্য দেখিয়ে বৈধ এলসি বা রেমিট্যান্সের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ বিদেশে পাঠানো হয়। দ্বিতীয়ত, সফটওয়্যার কেনার পর প্রতিবছর লাইসেন্স নবায়ন বা রক্ষণাবেক্ষণের নামে বাস্তবে কোনো সেবা না দিয়েও বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করা হয়। তৃতীয়ত, মূল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে বিদেশে নিবন্ধিত শেল কোম্পানি বা মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্রয় দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে অকার্যকর বা পুরোনো প্রযুক্তির সফটওয়্যার ক্রয় করে পরে তা ব্যবহার অনুপযোগী ঘোষণা করে লোকসান দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।

অগ্রণী ব্যাংক নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত: কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে অতীতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পরিদর্শন প্রতিবেদনে ব্যাংকটির ব্যবহৃত T24 কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার আপগ্রেডেশন ও লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সফটওয়্যার সরবরাহকারী Temenos-এর স্থানীয় প্রতিনিধি ফ্লোরা টেলিকম-এর সঙ্গে যোগসাজশে সফটওয়্যার যথাযথভাবে আপগ্রেড না করেই অর্থ ছাড়ের চেষ্টা এবং আইটি খাতে ব্যয় সংক্রান্ত বিভিন্ন অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্তে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়ের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।
একই প্রতিবেদনে বিষয়টি মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে উল্লেখ করে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU)-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

অন্যান্য ব্যাংকেও অভিযোগ:
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, শুধু অগ্রণী ব্যাংক নয়, আরও কয়েকটি ব্যাংকের বিদেশি সফটওয়্যার ক্রয় ও লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে।
সোনালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিদেশি সফটওয়্যার আপগ্রেডেশন ও বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি নবায়নে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
বেসিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ও আইটি অবকাঠামো ক্রয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।
এছাড়া জনতা ব্যাংকের সফটওয়্যার লাইসেন্স নবায়ন এবং আইটি কনসালটেন্সি ফি বাবদ বিদেশে অতিরিক্ত অর্থ পাঠানোর অভিযোগও বিভিন্ন পর্যায়ে পর্যালোচনার বিষয় হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত পরিবর্তন: এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেও দীর্ঘদিন বিদেশি কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিজ্ঞতার পর নীতিগত পরিবর্তনের পথে হাঁটে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত একটি বিদেশি আইটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারের লাইসেন্স, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরামর্শক সেবার জন্য এক হাজার কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করা হয়। পরবর্তীতে বিদেশি সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরতা কমানো, ব্যয় সাশ্রয় এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব প্রযুক্তিবিদদের তৈরি Bangladesh Bank Core Banking System (BCBICS) চালু করে।
আবারও বিদেশি সফটওয়্যার কেনার উদ্যোগ?
তবে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব কোর ব্যাংকিং সিস্টেম চালুর পরও কয়েকটি ব্যাংক নতুন করে বিদেশি কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার কেনার উদ্যোগ নিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ব্যাংকের একজন পরিচালক জানান, ওরাকল নামক একটি বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার কেনার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁর দাবি, একই ধরনের কার্যক্ষমতা সম্পন্ন দেশীয় সফটওয়্যার ২ থেকে ৩ কোটি টাকার মধ্যেই পাওয়া সম্ভব।

কেন ধরা কঠিন?
স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসি ফোরামের চেয়ারম্যান ও আইটি বিশেষজ্ঞ ফজলে রাব্বী বলেন, কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারের সোর্স কোড, লাইসেন্সিং কাঠামো, ব্যবহারকারী লাইসেন্স, মডিউল আপগ্রেড এবং রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির বিষয়গুলো অত্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর।
তিনি বলেন, “সাধারণ আর্থিক অডিটের মাধ্যমে এসব যাচাই করা কঠিন। এজন্য সফটওয়্যার লাইসেন্স, সোর্স কোড, আপডেট এবং প্রকৃত সেবা প্রদান হয়েছে কি না—এসব যাচাইয়ে বিশেষায়িত আইটি অডিট অপরিহার্য। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে লাইসেন্স নবায়ন বা সফটওয়্যার আপগ্রেডের নামে বছরের পর বছর বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের ঝুঁকি তৈরি হয়।”
বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকিং খাতে বিদেশি সফটওয়্যার ক্রয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন, বাধ্যতামূলক স্বাধীন আইটি অডিট, সোর্স কোড ও লাইসেন্স যাচাই, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র এবং নিয়মিত বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে যেখানে সম্ভব দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারে অগ্রাধিকার দিলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি অর্থ পাচারের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বিদেশি সফটওয়্যার কেনার আড়ালে অর্থ পাচারের শঙ্কা: ব্যাংক খাতে নতুন উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৮:৩৮:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিদেশি কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার (Core Banking Software-CBS) ক্রয়, লাইসেন্স নবায়ন এবং বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির (AMC) আড়ালে অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে দেশের ব্যাংকিং খাত। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিমূল্য নির্ধারণ (Over-invoicing), অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ক্রয়, ভুয়া লাইসেন্স নবায়ন এবং মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর—এসব পদ্ধতি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম সাধারণত চারটি উপায়ে সংঘটিত হয়। প্রথমত, কোনো সফটওয়্যারের প্রকৃত মূল্য অপেক্ষা কয়েক গুণ বেশি মূল্য দেখিয়ে বৈধ এলসি বা রেমিট্যান্সের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ বিদেশে পাঠানো হয়। দ্বিতীয়ত, সফটওয়্যার কেনার পর প্রতিবছর লাইসেন্স নবায়ন বা রক্ষণাবেক্ষণের নামে বাস্তবে কোনো সেবা না দিয়েও বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করা হয়। তৃতীয়ত, মূল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে বিদেশে নিবন্ধিত শেল কোম্পানি বা মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্রয় দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে অকার্যকর বা পুরোনো প্রযুক্তির সফটওয়্যার ক্রয় করে পরে তা ব্যবহার অনুপযোগী ঘোষণা করে লোকসান দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।

অগ্রণী ব্যাংক নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত: কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে অতীতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পরিদর্শন প্রতিবেদনে ব্যাংকটির ব্যবহৃত T24 কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার আপগ্রেডেশন ও লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সফটওয়্যার সরবরাহকারী Temenos-এর স্থানীয় প্রতিনিধি ফ্লোরা টেলিকম-এর সঙ্গে যোগসাজশে সফটওয়্যার যথাযথভাবে আপগ্রেড না করেই অর্থ ছাড়ের চেষ্টা এবং আইটি খাতে ব্যয় সংক্রান্ত বিভিন্ন অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্তে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়ের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।
একই প্রতিবেদনে বিষয়টি মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে উল্লেখ করে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU)-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

অন্যান্য ব্যাংকেও অভিযোগ:
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, শুধু অগ্রণী ব্যাংক নয়, আরও কয়েকটি ব্যাংকের বিদেশি সফটওয়্যার ক্রয় ও লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে।
সোনালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিদেশি সফটওয়্যার আপগ্রেডেশন ও বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি নবায়নে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
বেসিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ও আইটি অবকাঠামো ক্রয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।
এছাড়া জনতা ব্যাংকের সফটওয়্যার লাইসেন্স নবায়ন এবং আইটি কনসালটেন্সি ফি বাবদ বিদেশে অতিরিক্ত অর্থ পাঠানোর অভিযোগও বিভিন্ন পর্যায়ে পর্যালোচনার বিষয় হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত পরিবর্তন: এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেও দীর্ঘদিন বিদেশি কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিজ্ঞতার পর নীতিগত পরিবর্তনের পথে হাঁটে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত একটি বিদেশি আইটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারের লাইসেন্স, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরামর্শক সেবার জন্য এক হাজার কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করা হয়। পরবর্তীতে বিদেশি সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরতা কমানো, ব্যয় সাশ্রয় এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব প্রযুক্তিবিদদের তৈরি Bangladesh Bank Core Banking System (BCBICS) চালু করে।
আবারও বিদেশি সফটওয়্যার কেনার উদ্যোগ?
তবে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব কোর ব্যাংকিং সিস্টেম চালুর পরও কয়েকটি ব্যাংক নতুন করে বিদেশি কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার কেনার উদ্যোগ নিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ব্যাংকের একজন পরিচালক জানান, ওরাকল নামক একটি বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার কেনার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁর দাবি, একই ধরনের কার্যক্ষমতা সম্পন্ন দেশীয় সফটওয়্যার ২ থেকে ৩ কোটি টাকার মধ্যেই পাওয়া সম্ভব।

কেন ধরা কঠিন?
স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসি ফোরামের চেয়ারম্যান ও আইটি বিশেষজ্ঞ ফজলে রাব্বী বলেন, কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারের সোর্স কোড, লাইসেন্সিং কাঠামো, ব্যবহারকারী লাইসেন্স, মডিউল আপগ্রেড এবং রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির বিষয়গুলো অত্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর।
তিনি বলেন, “সাধারণ আর্থিক অডিটের মাধ্যমে এসব যাচাই করা কঠিন। এজন্য সফটওয়্যার লাইসেন্স, সোর্স কোড, আপডেট এবং প্রকৃত সেবা প্রদান হয়েছে কি না—এসব যাচাইয়ে বিশেষায়িত আইটি অডিট অপরিহার্য। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে লাইসেন্স নবায়ন বা সফটওয়্যার আপগ্রেডের নামে বছরের পর বছর বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের ঝুঁকি তৈরি হয়।”
বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকিং খাতে বিদেশি সফটওয়্যার ক্রয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন, বাধ্যতামূলক স্বাধীন আইটি অডিট, সোর্স কোড ও লাইসেন্স যাচাই, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র এবং নিয়মিত বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে যেখানে সম্ভব দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারে অগ্রাধিকার দিলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি অর্থ পাচারের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।