নির্বাচনে সরগরম দেশশঙ্কা ছাপিয়ে উৎসবের আবহ
- আপডেট সময় : ০৫:২০:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের বাকি আর মাত্র ১১ দিন। প্রথমে শঙ্কা থাকলেও তপশিল ঘোষণার পরপরই পাল্টে যায় সারা দেশের নির্বাচনী চিত্র। শহর থেকে গ্রাম সবখানেই লেগেছে প্রচারের রং। টানা গণসংযোগে ব্যস্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। যেন দম ফেলারও ফুরসত নেই তাদের। চলছে রাস্তায় রাস্তায় মাইকিং, পাড়া-মহল্লায় হচ্ছে জনসভা ও উঠান বৈঠক।
সব মিলিয়ে দেশজুড়ে এখন সরগরম ভোটের মাঠ। দীর্ঘদিন পর হতে যাওয়া প্রতিযোগিতামূলক এই নির্বাচন সুষ্ঠু করার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
আজকালের মধ্যেই বিএনপি এবং আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহার ঘোষণার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শঙ্কা ছাপিয়ে সারা দেশে বইছে নির্বাচনী উৎসবের হাওয়া। বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে নির্বাচনী সহিংসতার কিছু ঘটনা ঘটলেও মোটাদাগে উৎসবের আমেজেই দেশজুড়ে চলছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার।
শহর থেকে গ্রাম, অলিগলি থেকে রাজপথ—সব জায়গায় এখন প্রধান আলোচনার বিষয় ‘ভোট’। ভোটগ্রহণের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, পাল্লা দিয়ে জমে উঠছে নির্বাচনী প্রচার। রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচার-গণসংযোগে দেশের প্রতিটি জনপদ মুখর। বড় রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে স্বতন্ত্র প্রার্থী—সবাই এখন ভোটের মাঠে। জনসভা, গণসংযোগ, প্রচারপত্র বিতরণসহ নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা।কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান কালবেলাকে বলেন, তিনি নির্বাচনী গণসংযোগে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। এরই মধ্যে নানামুখী আলোচনা সত্ত্বেও নির্বাচন ঘিরে যেন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
সর্বাত্মক প্রস্তুতিতে ইসি: নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন মনে করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে এ পর্যন্ত গৃহীত সব কার্যক্রম সঠিক পথেই রয়েছে। কোনো আশঙ্কাই টিকবে না। তিনি বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশ, জাতি এবং বিশ্ব দেখবে যে, বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা মনে করি, শতভাগ আস্থার সঙ্গে জনগণ এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নিচ্ছে এবং একটা উৎসবমুখর পরিবেশ মাঠে ঘাটে নির্বাচনে প্রচারণা চলছে। এগুলো তো আস্থারই বহিঃপ্রকাশ। ইসির পক্ষ থেকে শতভাগ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। ভোটাররা নিরাপদে কেন্দ্রে যাবেন, ভোট দেবেন এবং নিরাপদে তারা বাড়ি ফিরবেন—এই পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ বলেছেন, ‘নির্বাচনে প্রশাসন যথাযথভাবে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত রয়েছে। এ কাজে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সংকট দেখছি না। এবার একটি সম্পূর্ণ সুষ্ঠু নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে আমরা আশাবাদী। এর জন্য যা যা করণীয় প্রশাসন তা-ই করবে।’
ভোটের মাঠে থাকবে কড়া নিরাপত্তা: নির্বাচন ঘিরে নাশকতা ঠেকাতে তৎপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নির্বাচন ঘিরে অপতৎপরতা ঠেকাতে অনলাইনেও নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে জামিনে মুক্তি পাওয়া সন্দেহভাজনদের প্রতি কড়া নজর রাখা হয়েছে। জেলা, থানা ও ইউনিয়নে পর্যায়ে অপরাধীদের গতিবিধির ওপর নজরদারি করছে নিরাপত্তা বাহিনী।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত উগ্রবাদী কার্যক্রমে জড়িতের মামলায় কারাগার থেকে তিন শতাধিক আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তাদের মধ্যে সন্দেহভাজন, বিচারাধীন—এমনকি যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া আসামিও রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, নির্বাচন ঘিরে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) জসীম উদ্দিন খান বলেন, ‘আমরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ওপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছি। সাইবার পুলিশ কন্ট্রোল, সাইবার পেট্রোলিং ইউনিট ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতি মনিটর করছে। নির্বাচন ঘিরে যে কোনো উসকানি কিংবা অপতৎপরতার তথ্য পাওয়ামাত্র ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রচারের এ মহোৎসবের সমান্তরালে রাজনৈতিক মহলে রয়েছে নানা সমালোচনা ও শঙ্কা। তবে সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা, সব বাধা কাটিয়ে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে। সাধারণ মানুষের চাওয়া—যিনিই নির্বাচিত হোন না কেনো, তিনি যেন জনকল্যাণে নিবেদিত থাকেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক কালবেলাকে বলেন, ‘বিএনপিসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দল ও জনগণ, সামরিক বাহিনী, ব্যবসায়িক গোষ্ঠী, নাগরিক সমাজ, আন্তর্জাতিক মহল থেকে শুরু করে প্রত্যেকেই নির্বাচনের জন্য অপেক্ষায় আছে। সুতরাং নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কার কিছু মনে হচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘এখন নির্বাচন হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি। প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন মানেই গণসংযোগ আর প্রচারণা। মানুষ তথা ভোটারদের কাছে প্রার্থীকে তুলে ধরার কোনো বিকল্প নেই। সে জন্য প্রার্থীরা নানাভাবে নিজেদের জনগণের কাছে উপস্থাপন করছেন। তবে সম্প্রতি
দুই-একটা ঘটনা উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বিশেষ করে কোনো ধরনের প্রাণহানি কাম্য নয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও সংযতভাবে প্রচারণা চালাতে হবে। সে সঙ্গে শুধু কথার ফুলঝুড়ি নয়, বাস্তবধর্মী ইশতেহার দেওয়াটা বাঞ্ছনীয়।’











