ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এত আত্মবিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পেরে উঠবে কি ইরান?

  • আপডেট সময় : ০৩:০০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে ইরানের কৌশল নিয়ে সম্প্রতি তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণ ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-ঘনিষ্ঠ এ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সরাসরি সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করা সম্ভব না হলেও, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম তেহরান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই দৃষ্টিভঙ্গি নতুন নয়। তবে এতে আত্মবিশ্বাসের মাত্রা চোখে পড়ার মতো। প্রতিবেদনে একটি ধাপে ধাপে যুদ্ধ কৌশলের কথা বলা হয়েছে, যেখানে লক্ষ্য হলো সরাসরি বিজয় নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য যুদ্ধের খরচ অসহনীয় করে তোলা।টিকে থাকাকেই বিজয় হিসেবে দেখছে তেহরান

ইরানের কৌশলের মূল ভিত্তি হলো ‘সহনশীলতা ও বিঘ্ন সৃষ্টি’। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের আঘাত সহ্য করা, আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়া এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি করা। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটিকে প্রকৃত বিজয় বলা যায় না।
ইরান যেখানে রাষ্ট্রব্যবস্থার টিকে থাকাকেই জয় হিসেবে তুলে ধরে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধলক্ষ্য তুলনামূলকভাবে সীমিত। ওয়াশিংটনের প্রধান উদ্দেশ্য সাধারণত প্রতিপক্ষের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা ও পারমাণবিক বিস্তার ঠেকানো। কোনো দেশ দখল করা বা সরকার উৎখাত করা নয়।

এই ভিন্ন মানদণ্ডের কারণে এমন পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে, যেখানে ইরান অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল, সামরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও কূটনৈতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়লেও নিজ দেশে বিজয়ের ঘোষণা দিতে পারবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় এ ধরনের ঘোষণার তেমন কোনো মূল্য থাকে না বলে মত বিশ্লেষকদের।

তাদের মতে, ইরানের এই বয়ান মূলত অভ্যন্তরীণ জনমত ধরে রাখার কৌশল। বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার সংঘাতে গেলে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি হবে বহুগুণ বেশি।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে না পারলেও, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি সংঘাত বাড়িয়ে দিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিতে পারে। এ কারণেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা গোটা বিশ্বের জন্য উদ্বেগের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

এত আত্মবিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পেরে উঠবে কি ইরান?

আপডেট সময় : ০৩:০০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে ইরানের কৌশল নিয়ে সম্প্রতি তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণ ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-ঘনিষ্ঠ এ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সরাসরি সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করা সম্ভব না হলেও, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম তেহরান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই দৃষ্টিভঙ্গি নতুন নয়। তবে এতে আত্মবিশ্বাসের মাত্রা চোখে পড়ার মতো। প্রতিবেদনে একটি ধাপে ধাপে যুদ্ধ কৌশলের কথা বলা হয়েছে, যেখানে লক্ষ্য হলো সরাসরি বিজয় নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য যুদ্ধের খরচ অসহনীয় করে তোলা।টিকে থাকাকেই বিজয় হিসেবে দেখছে তেহরান

ইরানের কৌশলের মূল ভিত্তি হলো ‘সহনশীলতা ও বিঘ্ন সৃষ্টি’। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের আঘাত সহ্য করা, আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়া এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি করা। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটিকে প্রকৃত বিজয় বলা যায় না।
ইরান যেখানে রাষ্ট্রব্যবস্থার টিকে থাকাকেই জয় হিসেবে তুলে ধরে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধলক্ষ্য তুলনামূলকভাবে সীমিত। ওয়াশিংটনের প্রধান উদ্দেশ্য সাধারণত প্রতিপক্ষের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা ও পারমাণবিক বিস্তার ঠেকানো। কোনো দেশ দখল করা বা সরকার উৎখাত করা নয়।

এই ভিন্ন মানদণ্ডের কারণে এমন পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে, যেখানে ইরান অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল, সামরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও কূটনৈতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়লেও নিজ দেশে বিজয়ের ঘোষণা দিতে পারবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় এ ধরনের ঘোষণার তেমন কোনো মূল্য থাকে না বলে মত বিশ্লেষকদের।

তাদের মতে, ইরানের এই বয়ান মূলত অভ্যন্তরীণ জনমত ধরে রাখার কৌশল। বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার সংঘাতে গেলে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি হবে বহুগুণ বেশি।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে না পারলেও, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি সংঘাত বাড়িয়ে দিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিতে পারে। এ কারণেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা গোটা বিশ্বের জন্য উদ্বেগের।