সংসদে সভাপতিত্ব নিয়ে আলোচনায় আছে যে চার নাম
- আপডেট সময় : ০৬:০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামী ১২ মার্চ। অধিবেশনের প্রথম বৈঠকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বিদায়ী স্পিকার অথবা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম বৈঠক শুরু হয়।
তবে, বর্তমানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায় সংসদের প্রথম অধিবেশন কে পরিচালনা করবেন— তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংসদের প্রথম অধিবেশন পরিচালনার জন্য এরই মধ্যে আলোচনায় রয়েছে বিএনপির জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতার নাম। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংবিধানের সব ধারা আক্ষরিকভাবে মানতে হবে, তা নয়। সংসদ সদস্যদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য একজন অধিবেশন পরিচালনা করে স্পিকার আর ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে পারেন।
সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির মনোনয়নে জ্যেষ্ঠ সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে প্রথম দিনের অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।তাদের ভাষ্য, একাধিকবার নির্বাচিত কয়েকজন সদস্যের নাম ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মহলে পাঠানো হয়েছে। পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সেখান থেকে একজনকে প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্বের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
বিএনপি নেতাদের মতে, আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, জয়নুল আবদিন ফারুক ও হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তাদের মধ্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও কায়কোবাদ বর্তমানে মন্ত্রিসভার সদস্য।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ ও ১৯৮৮ সালের চতুর্থ সংসদে ভোলা থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে নির্বাচিত হন। পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দিয়ে ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে নির্বাচিত হন। তিনি খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায়ও দায়িত্ব পালন করেন।
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ জাতীয় পার্টির হয়ে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ২০০১ সালের অষ্টম সংসদে জয় পান। ত্রয়োদশ সংসদের আগে সর্বশেষ ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত হন।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা থেকে বিএনপির মনোনয়নে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর আরও চারটি সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন। বিএনপি সরকারের সময়ে একাধিকবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
জয়নুল আবদিন ফারুক নোয়াখালী থেকে পঞ্চম থেকে নবম সংসদ পর্যন্ত টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এর আগে, ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাস্তবতায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করে নিরুদ্দেশ হন। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু ফৌজদারি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তাদের অনুপস্থিতিতে গেল ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।
সেদিন সংসদ নেতা নির্বাচিত হন তারেক রহমান। তাকে প্রধানমন্ত্রী করে নতুন সরকার কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে এখনও স্পিকার, উপনেতা ও চিফ হুইপের নাম চূড়ান্ত করেনি দলটি।
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। সেই সাংবিধানিক সময়সীমা মেনেই আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে, রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতির আহ্বানে নির্ধারিত দিনেই প্রথম অধিবেশন বসবে। একই দিনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।
সংবিধান অনুযায়ী, প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের মাধ্যমে সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। সেদিন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর নতুন সংসদ পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে প্রবেশ করবে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুসারে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে পারবেন।
কার্যপ্রণালী বিধিতে সদস্যদের শপথ বিষয়ে বলা হয়েছে, “(১) সংবিধানের ৭১ অনুচ্ছেদের (২) দফার (গ) উপ-দফায় বর্ণিত শর্তসাপেক্ষে, সাধারণ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম অধিবেশনের পূর্বে সংসদে নির্বাচিত প্রত্যেক ব্যক্তি সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে প্রদত্ত সংসদ-সদস্যদের জন্য নির্ধারিত ফরমে বিদায়ী স্পিকারের এবং তার অনুপস্থিতিতে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকারের এবং উভয়ের অনুপস্থিতিতে বিদায়ী স্পিকার মনোনীত ব্যক্তির সম্মুখে এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয় পদ শূন্য থাকলে স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের শপথ পরিচালনা ও সংসদে সভাপতিত্ব করার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তির সম্মুখে শপথ গ্রহণ করবেন বা ঘোষণা করবেন এবং তাতে স্বাক্ষর করবেন।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথম দিনের বৈঠকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মাধ্যমে এই সাংবিধানিক শূন্যতার অবসান হবে।



















