ঢাকা ০৭:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ভুয়া সনদে’ চাকরি, এবার এমপিওভুক্ত হতে অধ্যক্ষের তোড়জোড়!

  • আপডেট সময় : ০১:১৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

বরগুনার আমতলী উপজেলার ড. মো. শহীদুল ইসলাম কলেজে একাডেমিক নিয়োগ জালিয়াতি ও সরকারি এমপিওভুক্তির নামে এক নজিরবিহীন দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর চিত্র সামনে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ড. মো. শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি বেতন-ভাতা পাইয়ে দেওয়ার অজুহাতে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি এবং নিজ স্ত্রীকে ভুয়া সনদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পরও তাকে এমপিওভুক্ত করানোর চেষ্টা করছেন।


নথিপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠাতা ড. মো. শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মাসুমা আক্তার খাদিজাকে ২০১৩ সালে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে নিয়োগকালীন সময়ে তিনি কাম্য যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেননি। এছাড়া রয়েছে সনদপত্রের চরম জালিয়াতি। যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদ অর্জন করেছেন বলে দাবি করেছেন, সেটিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ চালু হওয়ার আগেই পাসের ভুয়া সনদ দিয়ে এমপিওভুক্তির আবেদন করেছেন তিনি।

বিভাগ চালু হওয়ার আগেই পাসের ভুয়া সনদ!

প্রতিষ্ঠাতা স্বামীর হস্তক্ষেপে প্রভাষক থেকে সরাসরি অধ্যক্ষের আসনে বসা মাসুমা আক্তার খাদিজার বিরুদ্ধে উঠেছে ভুয়া সনদের গুরুতর অভিযোগ। নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মূলত মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে কামিল পাস করা এই শিক্ষিকা অধ্যক্ষ পদের যোগ্যতা দেখাতে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন বিষয়ে স্নাতক (বিএ সম্মান) পাসের একটি সনদপত্র জমা দিয়েছেন।

সনদে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ২০০৫ সালে প্রথম সেমিস্টার এবং ২০০৮ সালে চূড়ান্ত সেমিস্টার পাস করেছেন।

তবে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগটি চালু করা হয়েছে ২০০৬ সালে। বিভাগ চালুর আগেই ভর্তি ও পাসের এই অসম্ভব জালিয়াতির সব তথ্য-প্রমাণ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

5

এছাড়া একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ২০১১ সালে লাইব্রেরি সায়েন্সে এমএ সম্পন্ন করেন বলে দাবি করেন। বর্তমানে তিনি এমপিওভুক্তির জন্য যেসব সনদ জমা দিয়েছেন, সেগুলোতে দেখা যায়, ২০০৬ সালে ইবাইস ইউনিভার্সিটি থেকে বিএ (সম্মান) ব্যবস্থাপনা, ২০০৮ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ (ব্যবস্থাপনা) এবং ২০১২ সালে এমএসএস (লাইব্রেরি সায়েন্স) সম্পন্ন করেছেন। এসব সনদও ভুয়া। তিনি এমপিওভুক্তির জন্য একেক সময় একেক ধরনের ভুয়া সনদ জমা দিয়ে আসছেন—যা অনুসন্ধানে স্পষ্ট হয়েছে।

মাউশির অযোগ্য ঘোষণা, তবুও এমপিওভুক্তির চেষ্টা

এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একের পর এক তদন্তে অধ্যক্ষ মাসুমা আক্তার খাদিজার এমপিওভুক্ত হওয়ার কোনো আইনগত সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। মাউশির বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয় এবং ঢাকা প্রধান কার্যালয় থেকে ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর ও ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট আলাদা দুটি তদন্ত প্রতিবেদনে অধ্যক্ষের এমপিওভুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই বলে সুপারিশ করা হয়।

শুধু মাসুমা আক্তার খাদিজাই নন, আরও কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরও এমপিওভুক্তির সুযোগ নেই বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে। কলেজটির হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নাসির উদ্দীন, বর্তমানে হিজলা সরকারি কলেজে কর্মরত মো. নাসির উদ্দীন শিকদারের সনদ ও এনআইডি কার্ড জালিয়াতি করে এমপিওভুক্তির চেষ্টা চালান। বিষয়টি মাউশির ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিলের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়।

pic

উক্ত তদন্তে তদন্ত কর্মকর্তা এই শিক্ষকের এমপিওভুক্তির কোনো সুযোগ নেই বলে মত দেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করারও সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষের স্বামী ড. মো. শহীদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজটির অধ্যক্ষ মাসুমা আক্তার খাদিজা ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘মাউশির তদন্ত প্রতিবেদনে কাম্য যোগ্যতা নেই বলা হয়েছে। তবে ১০-১২ বছর বেতন-ভাতা ছাড়া কোনো মানুষ কি চাকরি করবে? স্বামীর প্রতিষ্ঠিত কলেজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে দেখে আমি এখানে দায়িত্ব নিয়েছি। অন্য কোথাও বেতনভুক্ত হয়ে চাকরি করতে পারলে কি এখানে আসতাম?’

মাউশির সর্বশেষ তদন্ত নিয়ে তিনি বলেন, ‘যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তিনি কলেজে আসেননি। আমরা বরিশাল গিয়ে সব কাগজপত্র জমা দিয়ে এসেছি। আশা করি, কাগজপত্রে কোনো সমস্যা হবে না।’

‘বিষয় চালু হওয়ার আগেই অনার্স কীভাবে করলেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে?’—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনাদের মতো বড় বড় সাংবাদিক এটা নিয়ে কাজ করেছেন, কোনো লাভ হয়নি। আমরা যখন পড়েছি, তখন তো অনলাইন ছিল না। এখন নতুন করে এসব বলার কোনো যুক্তি নেই।’

এশিয়ান ইউনিভার্সিটির কোন ক্যাম্পাসে পড়াশোনা করেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট কিছু বলতে পারেননি। 

6

এদিকে প্রভাষক নাসির উদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘এই কলেজের বিষয়ে অভিযোগ আসার পর একাধিকবার তদন্ত হয়েছে। সর্বশেষ মাউশি থেকে একটি তদন্ত দেওয়া হয়েছে। যতটুকু জানি, সেই তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনের আলোকে মাউশি ব্যবস্থা নেবে। আপাতত এমপিওর কোনো সুযোগ নেই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘নিয়মের ব্যত্যয় হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুয়া নিয়োগ কিংবা অনিয়ম করে এমপিওভুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

‘ভুয়া সনদে’ চাকরি, এবার এমপিওভুক্ত হতে অধ্যক্ষের তোড়জোড়!

আপডেট সময় : ০১:১৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

বরগুনার আমতলী উপজেলার ড. মো. শহীদুল ইসলাম কলেজে একাডেমিক নিয়োগ জালিয়াতি ও সরকারি এমপিওভুক্তির নামে এক নজিরবিহীন দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর চিত্র সামনে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ড. মো. শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি বেতন-ভাতা পাইয়ে দেওয়ার অজুহাতে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি এবং নিজ স্ত্রীকে ভুয়া সনদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পরও তাকে এমপিওভুক্ত করানোর চেষ্টা করছেন।


নথিপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠাতা ড. মো. শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মাসুমা আক্তার খাদিজাকে ২০১৩ সালে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে নিয়োগকালীন সময়ে তিনি কাম্য যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেননি। এছাড়া রয়েছে সনদপত্রের চরম জালিয়াতি। যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদ অর্জন করেছেন বলে দাবি করেছেন, সেটিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ চালু হওয়ার আগেই পাসের ভুয়া সনদ দিয়ে এমপিওভুক্তির আবেদন করেছেন তিনি।

বিভাগ চালু হওয়ার আগেই পাসের ভুয়া সনদ!

প্রতিষ্ঠাতা স্বামীর হস্তক্ষেপে প্রভাষক থেকে সরাসরি অধ্যক্ষের আসনে বসা মাসুমা আক্তার খাদিজার বিরুদ্ধে উঠেছে ভুয়া সনদের গুরুতর অভিযোগ। নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মূলত মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে কামিল পাস করা এই শিক্ষিকা অধ্যক্ষ পদের যোগ্যতা দেখাতে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন বিষয়ে স্নাতক (বিএ সম্মান) পাসের একটি সনদপত্র জমা দিয়েছেন।

সনদে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ২০০৫ সালে প্রথম সেমিস্টার এবং ২০০৮ সালে চূড়ান্ত সেমিস্টার পাস করেছেন।

তবে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগটি চালু করা হয়েছে ২০০৬ সালে। বিভাগ চালুর আগেই ভর্তি ও পাসের এই অসম্ভব জালিয়াতির সব তথ্য-প্রমাণ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

5

এছাড়া একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ২০১১ সালে লাইব্রেরি সায়েন্সে এমএ সম্পন্ন করেন বলে দাবি করেন। বর্তমানে তিনি এমপিওভুক্তির জন্য যেসব সনদ জমা দিয়েছেন, সেগুলোতে দেখা যায়, ২০০৬ সালে ইবাইস ইউনিভার্সিটি থেকে বিএ (সম্মান) ব্যবস্থাপনা, ২০০৮ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ (ব্যবস্থাপনা) এবং ২০১২ সালে এমএসএস (লাইব্রেরি সায়েন্স) সম্পন্ন করেছেন। এসব সনদও ভুয়া। তিনি এমপিওভুক্তির জন্য একেক সময় একেক ধরনের ভুয়া সনদ জমা দিয়ে আসছেন—যা অনুসন্ধানে স্পষ্ট হয়েছে।

মাউশির অযোগ্য ঘোষণা, তবুও এমপিওভুক্তির চেষ্টা

এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একের পর এক তদন্তে অধ্যক্ষ মাসুমা আক্তার খাদিজার এমপিওভুক্ত হওয়ার কোনো আইনগত সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। মাউশির বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয় এবং ঢাকা প্রধান কার্যালয় থেকে ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর ও ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট আলাদা দুটি তদন্ত প্রতিবেদনে অধ্যক্ষের এমপিওভুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই বলে সুপারিশ করা হয়।

শুধু মাসুমা আক্তার খাদিজাই নন, আরও কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরও এমপিওভুক্তির সুযোগ নেই বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে। কলেজটির হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নাসির উদ্দীন, বর্তমানে হিজলা সরকারি কলেজে কর্মরত মো. নাসির উদ্দীন শিকদারের সনদ ও এনআইডি কার্ড জালিয়াতি করে এমপিওভুক্তির চেষ্টা চালান। বিষয়টি মাউশির ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিলের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়।

pic

উক্ত তদন্তে তদন্ত কর্মকর্তা এই শিক্ষকের এমপিওভুক্তির কোনো সুযোগ নেই বলে মত দেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করারও সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষের স্বামী ড. মো. শহীদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজটির অধ্যক্ষ মাসুমা আক্তার খাদিজা ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘মাউশির তদন্ত প্রতিবেদনে কাম্য যোগ্যতা নেই বলা হয়েছে। তবে ১০-১২ বছর বেতন-ভাতা ছাড়া কোনো মানুষ কি চাকরি করবে? স্বামীর প্রতিষ্ঠিত কলেজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে দেখে আমি এখানে দায়িত্ব নিয়েছি। অন্য কোথাও বেতনভুক্ত হয়ে চাকরি করতে পারলে কি এখানে আসতাম?’

মাউশির সর্বশেষ তদন্ত নিয়ে তিনি বলেন, ‘যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তিনি কলেজে আসেননি। আমরা বরিশাল গিয়ে সব কাগজপত্র জমা দিয়ে এসেছি। আশা করি, কাগজপত্রে কোনো সমস্যা হবে না।’

‘বিষয় চালু হওয়ার আগেই অনার্স কীভাবে করলেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে?’—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনাদের মতো বড় বড় সাংবাদিক এটা নিয়ে কাজ করেছেন, কোনো লাভ হয়নি। আমরা যখন পড়েছি, তখন তো অনলাইন ছিল না। এখন নতুন করে এসব বলার কোনো যুক্তি নেই।’

এশিয়ান ইউনিভার্সিটির কোন ক্যাম্পাসে পড়াশোনা করেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট কিছু বলতে পারেননি। 

6

এদিকে প্রভাষক নাসির উদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘এই কলেজের বিষয়ে অভিযোগ আসার পর একাধিকবার তদন্ত হয়েছে। সর্বশেষ মাউশি থেকে একটি তদন্ত দেওয়া হয়েছে। যতটুকু জানি, সেই তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনের আলোকে মাউশি ব্যবস্থা নেবে। আপাতত এমপিওর কোনো সুযোগ নেই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘নিয়মের ব্যত্যয় হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুয়া নিয়োগ কিংবা অনিয়ম করে এমপিওভুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’