ঢাকা ০২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর ঘিরে ব্যস্ত প্রশাসন ও নেতাকর্মীরা

  • আপডেট সময় : ০৬:২৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

সরকার গঠনের পর প্রথমবার ফেনী সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নানার বাড়ি এলাকা হিসেবে পরিচিত পরশুরাম ও ফুলগাজীতে আগমন উপলক্ষে সড়ক মেরামত এবং সভা স্থলের আশপাশের এলাকার সৌন্দর্য বর্ধনসহ নানা কাজে ব্যস্ত স্থানীয় প্রশাসন।এরই মধ্যে পূর্বনির্ধারিত ১৭ সেপ্টেম্বরের সফর পিছিয়ে আগামী ১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত প্রশাসন, বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। প্রশাসন দফায় দফায় বৈঠকের পাশাপাশি বিএনপি নেতারাও উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের আমন্ত্রণ দেওয়াসহ প্রস্তুতি সভাসহ ব্যস্ত সময় পার করছেন।প্রধানমন্ত্রীর আগমনে পহেলা অক্টোবর নতুন সময়সূচি নির্ধারণ হওয়ার পর শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। সভাস্থল পরিদর্শন করেন এর আগে শুক্রবার বিকেলে বিভিন্ন ভেন্যু ও নিরাপত্তা-ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী।

শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছে।প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জেলার উন্নয়নের পাশাপাশি নানা দাবি সামনে আনছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। সবচেয়ে আলোচনায় ফেনীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা এছাড়াও ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইন পুনরায় চালু, ভারতের দখলে থাকা মুহুরি চড়ের জমি উদ্ধারসহ নানা দাবি জানিয়েছে আসছে ফেনীবাসী।ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু বলেন, ফেনী সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করন। ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ পুনরায় চালু করন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইতোমধ্যেই তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতির কথা জানান জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবউল করিম।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততার কারণে ১৭ সেপ্টেম্বরের সফরটি স্থগিত করা হলেও ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ফেনী আগমন করবেন।’

এর ফলে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসন এবং বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, একনেকে অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার ‘মুহুরি-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কের মুহুরি নদীর তীরে উদ্বোধনী ফলক ও জনসভাস্থল প্রস্তুতের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

এছাড়া, পরশুরাম মডেল সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে হেলিপ্যাড নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে এবং ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়কের সংযোগস্থলে মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চালাচ্ছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

​

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া বলেন, ‘সভাস্থলে বিশুদ্ধ পানির ট্যাংক ও পোর্টেবল টয়লেট স্থাপনসহ সার্বিক প্রস্তুতি সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সফরে পার্শ্ববর্তী ফুলগাজীর শ্রীপুর নানার বাড়িতে যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে এরপর ফুলগাজী পাইলট হাইস্কুল মাঠে ওই দিন বিকেলে ফেনী বাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেবেন।’

জানা যায়, সফরের শুরুতে জেলার পরশুরামে ঘাটঘর এলাকায় মুহুরি নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বাঁধের ভাঙন ও বন্যায় মানুষজন যে ক্ষতির মুখে পড়েন তা থেকে রক্ষা পাবেন। সামগ্রিকভাবে-এ বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষ এটির সুফল পাবেন। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে ১৬ জুন একনেকে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার ‘মুহুরি-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ অনুমোদন দেওয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরি ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা প্রদান এবং ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন সরকার প্রধান। সফরে প্রধানমন্ত্রী তার নানার বাড়ি ফুলগাজীর শ্রীপুরের মজুমদার বাড়িতে আত্মীয়স্বজনদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত করবেন। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা এবং রোগীদের জন্য বিনামূল্যে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসার বিশেষ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে। সফরকালে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সুধীসমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন।

ফুলগাজী সরকারি হাই স্কুল মাঠে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সূত্র জানিয়েছে, এ জনসভাস্থল থেকে ফুলগাজীকে দেশের নতুন পৌরসভায় উন্নীত করণের ঘোষণা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এ ঘোষণার পর ফেনী জেলার ছয় উপজেলাতে ৬টি পৌরসভা গঠিত হবে।

এর আগে, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পৈতৃক বাড়ি ও নিজের নির্বাচনি এলাকা ফুলগাজীকে থানা থেকে উপজেলায় উন্নীত করেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় ১৯৯৩ সালে লোকসানের অযুহাতে বন্ধ করে দেওয়া ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ পুনরায় চালুর দাবি জানাবেন বিএনপি নেতারা। এটি চালু হলে জেলার উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসার প্রসার ঘটবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর ঘিরে ব্যস্ত প্রশাসন ও নেতাকর্মীরা

আপডেট সময় : ০৬:২৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকার গঠনের পর প্রথমবার ফেনী সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নানার বাড়ি এলাকা হিসেবে পরিচিত পরশুরাম ও ফুলগাজীতে আগমন উপলক্ষে সড়ক মেরামত এবং সভা স্থলের আশপাশের এলাকার সৌন্দর্য বর্ধনসহ নানা কাজে ব্যস্ত স্থানীয় প্রশাসন।এরই মধ্যে পূর্বনির্ধারিত ১৭ সেপ্টেম্বরের সফর পিছিয়ে আগামী ১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত প্রশাসন, বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। প্রশাসন দফায় দফায় বৈঠকের পাশাপাশি বিএনপি নেতারাও উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের আমন্ত্রণ দেওয়াসহ প্রস্তুতি সভাসহ ব্যস্ত সময় পার করছেন।প্রধানমন্ত্রীর আগমনে পহেলা অক্টোবর নতুন সময়সূচি নির্ধারণ হওয়ার পর শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। সভাস্থল পরিদর্শন করেন এর আগে শুক্রবার বিকেলে বিভিন্ন ভেন্যু ও নিরাপত্তা-ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী।

শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছে।প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জেলার উন্নয়নের পাশাপাশি নানা দাবি সামনে আনছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। সবচেয়ে আলোচনায় ফেনীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা এছাড়াও ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইন পুনরায় চালু, ভারতের দখলে থাকা মুহুরি চড়ের জমি উদ্ধারসহ নানা দাবি জানিয়েছে আসছে ফেনীবাসী।ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু বলেন, ফেনী সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করন। ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ পুনরায় চালু করন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইতোমধ্যেই তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতির কথা জানান জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবউল করিম।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততার কারণে ১৭ সেপ্টেম্বরের সফরটি স্থগিত করা হলেও ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ফেনী আগমন করবেন।’

এর ফলে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসন এবং বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, একনেকে অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার ‘মুহুরি-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কের মুহুরি নদীর তীরে উদ্বোধনী ফলক ও জনসভাস্থল প্রস্তুতের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

এছাড়া, পরশুরাম মডেল সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে হেলিপ্যাড নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে এবং ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়কের সংযোগস্থলে মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চালাচ্ছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

​

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া বলেন, ‘সভাস্থলে বিশুদ্ধ পানির ট্যাংক ও পোর্টেবল টয়লেট স্থাপনসহ সার্বিক প্রস্তুতি সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সফরে পার্শ্ববর্তী ফুলগাজীর শ্রীপুর নানার বাড়িতে যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে এরপর ফুলগাজী পাইলট হাইস্কুল মাঠে ওই দিন বিকেলে ফেনী বাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেবেন।’

জানা যায়, সফরের শুরুতে জেলার পরশুরামে ঘাটঘর এলাকায় মুহুরি নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বাঁধের ভাঙন ও বন্যায় মানুষজন যে ক্ষতির মুখে পড়েন তা থেকে রক্ষা পাবেন। সামগ্রিকভাবে-এ বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষ এটির সুফল পাবেন। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে ১৬ জুন একনেকে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার ‘মুহুরি-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ অনুমোদন দেওয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরি ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা প্রদান এবং ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন সরকার প্রধান। সফরে প্রধানমন্ত্রী তার নানার বাড়ি ফুলগাজীর শ্রীপুরের মজুমদার বাড়িতে আত্মীয়স্বজনদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত করবেন। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা এবং রোগীদের জন্য বিনামূল্যে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসার বিশেষ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে। সফরকালে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সুধীসমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন।

ফুলগাজী সরকারি হাই স্কুল মাঠে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সূত্র জানিয়েছে, এ জনসভাস্থল থেকে ফুলগাজীকে দেশের নতুন পৌরসভায় উন্নীত করণের ঘোষণা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এ ঘোষণার পর ফেনী জেলার ছয় উপজেলাতে ৬টি পৌরসভা গঠিত হবে।

এর আগে, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পৈতৃক বাড়ি ও নিজের নির্বাচনি এলাকা ফুলগাজীকে থানা থেকে উপজেলায় উন্নীত করেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় ১৯৯৩ সালে লোকসানের অযুহাতে বন্ধ করে দেওয়া ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ পুনরায় চালুর দাবি জানাবেন বিএনপি নেতারা। এটি চালু হলে জেলার উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসার প্রসার ঘটবে।