ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অষ্টগ্রামে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের জের, একাংশকে শো-কজ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

  • আপডেট সময় : ০৯:২৭:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

​বিশেষ প্রতিনিধি:

​কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপিতে চরম ইমেজ সংকট ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম. শাহীনের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়। এ ঘটনার জের ধরে গত ২৭ সেপ্টেম্বর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জানাব এডভোকেট মাজহারুল ইসলাম এমপি স্বাক্ষরিত সভাপতি সাঈদ আহমেদকে ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হয়। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় কেবল এক পক্ষকে শো-কজ করায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
​স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘ ১৭ বছরের আওয়ামী দুঃশাসনের সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা যখন রাজপথে হামলা, মামলা, জেলজুলুম ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল, তখন যে-কজন নেতা অষ্টগ্রাম বিএনপিকে সুদৃঢ় নেতৃের মাধ্যমে আগলে রেখেছিলেন, তাদের মধ্যে সভাপতি সাঈদ আহমেদ, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কর্মী ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও অষ্টগ্রাম সদর ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল অন্যতম। অন্যদিকে, অতীতে আন্দোলনে নিষ্ক্রিয় থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম. শাহীন গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর হঠাৎ সক্রিয় হয়ে প্রভাব খাটিয়ে দলে বিভাজন সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
​অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পূর্ব অষ্টগ্রামের আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান ‘ফাটাকেষ্ট’ হিসেবে পরিচিত মোঃ কাসেদ মিয়াসহ চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট চক্রের সাথে আঁতাত করে বিএনপিকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত চালানো দীর্ঘদিন যাবত। এছাড়া কাসেদ পারিবারিক সূত্রে স্থানীয় বিএনপি নেতা আকসারের আপন চাচা। এই পারিবারিক ও ব্যক্তিস্বার্থকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগ দোসরদের বিএনপিতে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে বলে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাদের অভিযোগ।
​গত ২৫ সেপ্টেম্বর পূর্ব অষ্টগ্রাম বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে এলাকার রাজনীতির জন্য এক ‘কালো অধ্যায়’ বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সুবিধাবাদী চক্রটি একত্রিত হয়ে দলীয় কার্যালয়ে অতর্কিত হামলা চালায় এবং আখড়া বাজারে বেছে বেছে শুধু বিএনপি সমর্থিত ব্যবসায়ীদের দোকানপাটে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট চালায়।
​উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আলী রহমান অভিযোগ করে বলেন, কাসেদ চেয়ারম্যানের বেয়াই ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ সেলিম মিয়া প্রকাশ্যে সভাপতি সাঈদ স্যারকে মিঠামইনের বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীর ভাইয়ের মতো ‘শেষ করে দেওয়ার’ হুমকি দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
​উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল-মোস্তাক, যুবদল নেতা শহীদ মিয়া, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আফজাল, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুল হক আতিকসহ একাধিক নেতা জানান, আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির কতিপয় স্বার্থান্বেষী নেতা বিএনপি অফিস ও বিএনপি সমর্থকদের দোকানে হামলা চালিয়ে লুটপাট করেছে। অথচ আওয়ামী লীগ সমর্থকদের কোনো দোকানে ন্যূনতম আঘাত করা হয়নি—যা থেকেই মূল চক্রান্তকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
​এদিকে ‘বিল মাসকা’ জলমহাল ইজারা সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ জানান, মহামান্য হাইকোর্ট উক্ত জলমহালের ইজারা প্রক্রিয়ার ওপর ইতোমধ্যে ৬ মাসের স্থগিতাদেশ (রুল) জারি করেছেন (রিট পিটিশন নম্বর: ৩১.১২.৪৮০০.০০৭.৩৪.০৭০.২৪-২৯৪৪)। তিনি বলেন, উক্ত জলমহালে আমাদের প্রায় কোটি টাকার কাটাবাঁশ ফেলা রয়েছে এবং সারা বছর আমরাই এটি রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছি। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নিয়ম বহির্ভূত ভাবে কাউকে ইজারা দেওয়া হলে সরকারি নিয়ম মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইজারা বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
​বিগত ১৬ বছর রাজনীতির সাথে যুক্ত না থেকে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে অর্থ কামিয়ে নব্য সুবিধাবাদী কিছু সন্ত্রাসীদের নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি শান্ত এলাকাকে অশান্ত করে তোলার অভিযোগ করেন তিনি। তিনি জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে সরেজমিনে এসে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
​অপরদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম. শাহীন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, গত ৫ আগস্টের পূর্বে সভাপতি সাঈদ আহমেদ মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীর ছত্রছায়ায় চলতেন। ৫ আগস্টের পর মামলা বাণিজ্য, অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, জবরদখল এবং জলমহাল দখলসহ নানা অপকর্মে তিনি লিপ্ত ছিলেন—যা বিভিন্ন জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেল ও জাতীয় দৈনিক গুলোতে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তার হাত থেকে দলকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর সোহেল, উপজেলা মতসজীবী দলে আহবায়ক মাহফুজ আলম, সেচ্ছাসেবক দলের দলের আহবায়ক মোঃ জুয়েল মিয়া
বিএনপির দপ্তর সম্পাদক জিএম মোশাররফ উদ্দিন সহ অনেকই মেয়াদোত্তীর্ন উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির দাবী করেন। অন্য দিকে ​সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ জানায়নি। তবে বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

অষ্টগ্রামে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের জের, একাংশকে শো-কজ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

আপডেট সময় : ০৯:২৭:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​বিশেষ প্রতিনিধি:

​কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপিতে চরম ইমেজ সংকট ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম. শাহীনের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়। এ ঘটনার জের ধরে গত ২৭ সেপ্টেম্বর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জানাব এডভোকেট মাজহারুল ইসলাম এমপি স্বাক্ষরিত সভাপতি সাঈদ আহমেদকে ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হয়। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় কেবল এক পক্ষকে শো-কজ করায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
​স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘ ১৭ বছরের আওয়ামী দুঃশাসনের সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা যখন রাজপথে হামলা, মামলা, জেলজুলুম ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল, তখন যে-কজন নেতা অষ্টগ্রাম বিএনপিকে সুদৃঢ় নেতৃের মাধ্যমে আগলে রেখেছিলেন, তাদের মধ্যে সভাপতি সাঈদ আহমেদ, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কর্মী ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও অষ্টগ্রাম সদর ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল অন্যতম। অন্যদিকে, অতীতে আন্দোলনে নিষ্ক্রিয় থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম. শাহীন গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর হঠাৎ সক্রিয় হয়ে প্রভাব খাটিয়ে দলে বিভাজন সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
​অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পূর্ব অষ্টগ্রামের আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান ‘ফাটাকেষ্ট’ হিসেবে পরিচিত মোঃ কাসেদ মিয়াসহ চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট চক্রের সাথে আঁতাত করে বিএনপিকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত চালানো দীর্ঘদিন যাবত। এছাড়া কাসেদ পারিবারিক সূত্রে স্থানীয় বিএনপি নেতা আকসারের আপন চাচা। এই পারিবারিক ও ব্যক্তিস্বার্থকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগ দোসরদের বিএনপিতে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে বলে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাদের অভিযোগ।
​গত ২৫ সেপ্টেম্বর পূর্ব অষ্টগ্রাম বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে এলাকার রাজনীতির জন্য এক ‘কালো অধ্যায়’ বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সুবিধাবাদী চক্রটি একত্রিত হয়ে দলীয় কার্যালয়ে অতর্কিত হামলা চালায় এবং আখড়া বাজারে বেছে বেছে শুধু বিএনপি সমর্থিত ব্যবসায়ীদের দোকানপাটে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট চালায়।
​উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আলী রহমান অভিযোগ করে বলেন, কাসেদ চেয়ারম্যানের বেয়াই ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ সেলিম মিয়া প্রকাশ্যে সভাপতি সাঈদ স্যারকে মিঠামইনের বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীর ভাইয়ের মতো ‘শেষ করে দেওয়ার’ হুমকি দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
​উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল-মোস্তাক, যুবদল নেতা শহীদ মিয়া, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আফজাল, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুল হক আতিকসহ একাধিক নেতা জানান, আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির কতিপয় স্বার্থান্বেষী নেতা বিএনপি অফিস ও বিএনপি সমর্থকদের দোকানে হামলা চালিয়ে লুটপাট করেছে। অথচ আওয়ামী লীগ সমর্থকদের কোনো দোকানে ন্যূনতম আঘাত করা হয়নি—যা থেকেই মূল চক্রান্তকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
​এদিকে ‘বিল মাসকা’ জলমহাল ইজারা সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ জানান, মহামান্য হাইকোর্ট উক্ত জলমহালের ইজারা প্রক্রিয়ার ওপর ইতোমধ্যে ৬ মাসের স্থগিতাদেশ (রুল) জারি করেছেন (রিট পিটিশন নম্বর: ৩১.১২.৪৮০০.০০৭.৩৪.০৭০.২৪-২৯৪৪)। তিনি বলেন, উক্ত জলমহালে আমাদের প্রায় কোটি টাকার কাটাবাঁশ ফেলা রয়েছে এবং সারা বছর আমরাই এটি রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছি। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নিয়ম বহির্ভূত ভাবে কাউকে ইজারা দেওয়া হলে সরকারি নিয়ম মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইজারা বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
​বিগত ১৬ বছর রাজনীতির সাথে যুক্ত না থেকে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে অর্থ কামিয়ে নব্য সুবিধাবাদী কিছু সন্ত্রাসীদের নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি শান্ত এলাকাকে অশান্ত করে তোলার অভিযোগ করেন তিনি। তিনি জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে সরেজমিনে এসে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
​অপরদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম. শাহীন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, গত ৫ আগস্টের পূর্বে সভাপতি সাঈদ আহমেদ মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীর ছত্রছায়ায় চলতেন। ৫ আগস্টের পর মামলা বাণিজ্য, অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, জবরদখল এবং জলমহাল দখলসহ নানা অপকর্মে তিনি লিপ্ত ছিলেন—যা বিভিন্ন জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেল ও জাতীয় দৈনিক গুলোতে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তার হাত থেকে দলকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর সোহেল, উপজেলা মতসজীবী দলে আহবায়ক মাহফুজ আলম, সেচ্ছাসেবক দলের দলের আহবায়ক মোঃ জুয়েল মিয়া
বিএনপির দপ্তর সম্পাদক জিএম মোশাররফ উদ্দিন সহ অনেকই মেয়াদোত্তীর্ন উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির দাবী করেন। অন্য দিকে ​সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ জানায়নি। তবে বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে।