ঢাকা ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা ঘিরে বিতর্ক, দুই শিক্ষকের পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন

  • আপডেট সময় : ০৩:২৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯১তম সিন্ডিকেট সভাকে সামনে রেখে কয়েকজন শিক্ষকের সম্ভাব্য পদোন্নতি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাসুদ রানা এবং ড. কামাল উদ্দিনের পদোন্নতির বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ড. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ওএমআর-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষে ভর্তি প্রক্রিয়ার অনিয়ম তদন্তে গঠিত কমিটির অনুসন্ধানে ১৬ শিক্ষার্থীর অবৈধ ভর্তির তথ্য প্রমাণিত হয়। এ ঘটনায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ওই সময় ড. মাসুদ রানা ভর্তি পরীক্ষার ওএমআর-সংশ্লিষ্ট একটি কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলেও জানা গেছে। ফলে ভর্তি প্রক্রিয়ার মতো সংবেদনশীল দায়িত্বে থাকা একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিষ্পত্তির বিষয়টি পরিষ্কার না করেই পদোন্নতির প্রস্তাব সিন্ডিকেটে উঠছে এ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন।
তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, স্নাতক পর্যায়ে তার সিজিপিএ ৩.৩১ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত সব যোগ্যতা ও নিয়োগবিধি পূরণ করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। ড. মাসুদ রানা বঙ্গবন্ধু –নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
এদিকে ড. কামাল উদ্দিনের সম্ভাব্য পদোন্নতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনিয়ম ও দুর্নীতিসংক্রান্ত তদন্তের পর তাকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল, অভিযোগ নিষ্পত্তির অবস্থা এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে সেই প্রতিবেদনের প্রভাব কী তা জানতে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মহলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত বা গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাদের পদোন্নতির আগে অভিযোগগুলো স্বচ্ছভাবে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। তার মতে, পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি, তদন্ত প্রতিবেদন ও জবাবদিহিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তবে অভিযোগ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া কোনো ব্যক্তিকে কেবল সেই কারণে দোষী বলা যায় না। সংশ্লিষ্ট তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯১তম সিন্ডিকেট সভায় শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, সেদিকেই এখন নজর শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা ঘিরে বিতর্ক, দুই শিক্ষকের পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৩:২৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯১তম সিন্ডিকেট সভাকে সামনে রেখে কয়েকজন শিক্ষকের সম্ভাব্য পদোন্নতি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাসুদ রানা এবং ড. কামাল উদ্দিনের পদোন্নতির বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ড. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ওএমআর-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষে ভর্তি প্রক্রিয়ার অনিয়ম তদন্তে গঠিত কমিটির অনুসন্ধানে ১৬ শিক্ষার্থীর অবৈধ ভর্তির তথ্য প্রমাণিত হয়। এ ঘটনায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ওই সময় ড. মাসুদ রানা ভর্তি পরীক্ষার ওএমআর-সংশ্লিষ্ট একটি কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলেও জানা গেছে। ফলে ভর্তি প্রক্রিয়ার মতো সংবেদনশীল দায়িত্বে থাকা একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিষ্পত্তির বিষয়টি পরিষ্কার না করেই পদোন্নতির প্রস্তাব সিন্ডিকেটে উঠছে এ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন।
তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, স্নাতক পর্যায়ে তার সিজিপিএ ৩.৩১ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত সব যোগ্যতা ও নিয়োগবিধি পূরণ করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। ড. মাসুদ রানা বঙ্গবন্ধু –নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
এদিকে ড. কামাল উদ্দিনের সম্ভাব্য পদোন্নতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনিয়ম ও দুর্নীতিসংক্রান্ত তদন্তের পর তাকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল, অভিযোগ নিষ্পত্তির অবস্থা এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে সেই প্রতিবেদনের প্রভাব কী তা জানতে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মহলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত বা গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাদের পদোন্নতির আগে অভিযোগগুলো স্বচ্ছভাবে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। তার মতে, পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি, তদন্ত প্রতিবেদন ও জবাবদিহিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তবে অভিযোগ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া কোনো ব্যক্তিকে কেবল সেই কারণে দোষী বলা যায় না। সংশ্লিষ্ট তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯১তম সিন্ডিকেট সভায় শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, সেদিকেই এখন নজর শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের।