ঢাকা ০২:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চন্দ্রগঞ্জে ইতালিপ্রবাসীর মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ, আদালতে উদ্ধারের আবেদন

  • আপডেট সময় : ০৮:০০:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে ইতালিপ্রবাসী পরিবারের এক তরুণীকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন আত্মীয়ের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে বসতঘর থেকে নগদ ৫ লাখ টাকা, প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ইতালির পরিচয়পত্র, পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চন্দ্রগঞ্জ পিটিশান মামলা নাং ২৯/২৬ তারিখ ০১/১০/২০২৬ইং এবং এ ঘটনায় মেয়েটিকে উদ্ধারে পুলিশি তল্লাশি চালানোর জন্য আদালতে আবেদন করেছেন তার বাবা আবু তারেক মোল্লা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আদালতে দাখিল করা আবেদনে আবু তারেক মোল্লা এসব অভিযোগ করেন। তিনি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন দেওপাড়া এলাকার কড়িম উদ্দিন মোল্লা বাড়ির বাসিন্দাআদালতে দেওয়া আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট দুপুরে কয়েকজন আত্মীয় তাদের বাড়িতে দাওয়াতে আসেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, দুপুরের খাবার শেষে তারা তাকে ও তার স্ত্রীকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। এ সময় বসতঘরের আলমারিতে থাকা নগদ ৫ লাখ টাকা ও প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে নেওয়া হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর আবু তারেক মোল্লার বলেন, তার মেয়েকে কৌশলে নিয়ে গিয়ে একজনের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মেয়েটিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি আরও বলা হয়, মেয়েটির ইতালির পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, পারমেসো ডি সোজর্নো, কোডিচে ফিসকালে এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসব নথি না থাকায় মেয়েটির স্বাভাবিক জীবনযাপন ও বিদেশে ফেরার প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তার মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে অবস্থান করে পড়াশোনা করেছে। গত ২২ জুলাই সে বাংলাদেশে আসে। দেশে আসার পর আত্মীয়তার সূত্রে অভিযুক্তদের বাড়িতে দাওয়াত দেওয়া হয়। ওই দাওয়াতের সুযোগেই পরিকল্পিতভাবে মেয়েটিকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।ঘটনার পর বিষয়টি আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাক্ষীদের জানানো হয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন, মেয়েটিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানাধীন জঙ্গিমনোরাজপুর এলাকার একটি বাড়িতে রাখা হয়েছে। বর্তমানে মেয়েটি সেখানে এক নারীর হেফাজতে রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের কাছে আবেদনকারী বলেন, মেয়েকে দেখতে না পারায় তিনি ও তার স্ত্রী শারীরিক ও মানসিকভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। মেয়েটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাকে উদ্ধার এবং যথাযথ তত্ত্বাবধানে ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
আবেদনে অভিযুক্ত হিসেবে ফরিদ হোসেন ফাহাদ, মারজাহান বেগম, মোস্তাফিজুর রহমান মুন্না ও ফরিদা আক্তার ভুলির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, আবেদনে বর্ণিত ঘটনাটি সত্য কি না, মেয়েটি বর্তমানে কোথায় এবং তার অবস্থান ও নিরাপত্তা কী—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়। অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত কী আদেশ দেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী ব্যবস্থা নেয়, তা পরবর্তী কার্যক্রমে জানা যাবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারার বিধান অনুযায়ী পুলিশি তল্লাশির মাধ্যমে মেয়েটিকে উদ্ধার করে তার পিতা আবু তারেক মোল্লার তত্ত্বাবধানে দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে তল্লাশির সম্ভাব্য স্থান হিসেবে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানাধীন জঙ্গিমনোরাজপুর এলাকার একটি বাড়ির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চন্দ্রগঞ্জে ইতালিপ্রবাসীর মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ, আদালতে উদ্ধারের আবেদন

আপডেট সময় : ০৮:০০:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে ইতালিপ্রবাসী পরিবারের এক তরুণীকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন আত্মীয়ের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে বসতঘর থেকে নগদ ৫ লাখ টাকা, প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ইতালির পরিচয়পত্র, পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চন্দ্রগঞ্জ পিটিশান মামলা নাং ২৯/২৬ তারিখ ০১/১০/২০২৬ইং এবং এ ঘটনায় মেয়েটিকে উদ্ধারে পুলিশি তল্লাশি চালানোর জন্য আদালতে আবেদন করেছেন তার বাবা আবু তারেক মোল্লা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আদালতে দাখিল করা আবেদনে আবু তারেক মোল্লা এসব অভিযোগ করেন। তিনি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন দেওপাড়া এলাকার কড়িম উদ্দিন মোল্লা বাড়ির বাসিন্দাআদালতে দেওয়া আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট দুপুরে কয়েকজন আত্মীয় তাদের বাড়িতে দাওয়াতে আসেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, দুপুরের খাবার শেষে তারা তাকে ও তার স্ত্রীকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। এ সময় বসতঘরের আলমারিতে থাকা নগদ ৫ লাখ টাকা ও প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে নেওয়া হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর আবু তারেক মোল্লার বলেন, তার মেয়েকে কৌশলে নিয়ে গিয়ে একজনের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মেয়েটিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি আরও বলা হয়, মেয়েটির ইতালির পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, পারমেসো ডি সোজর্নো, কোডিচে ফিসকালে এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসব নথি না থাকায় মেয়েটির স্বাভাবিক জীবনযাপন ও বিদেশে ফেরার প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তার মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে অবস্থান করে পড়াশোনা করেছে। গত ২২ জুলাই সে বাংলাদেশে আসে। দেশে আসার পর আত্মীয়তার সূত্রে অভিযুক্তদের বাড়িতে দাওয়াত দেওয়া হয়। ওই দাওয়াতের সুযোগেই পরিকল্পিতভাবে মেয়েটিকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।ঘটনার পর বিষয়টি আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাক্ষীদের জানানো হয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন, মেয়েটিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানাধীন জঙ্গিমনোরাজপুর এলাকার একটি বাড়িতে রাখা হয়েছে। বর্তমানে মেয়েটি সেখানে এক নারীর হেফাজতে রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের কাছে আবেদনকারী বলেন, মেয়েকে দেখতে না পারায় তিনি ও তার স্ত্রী শারীরিক ও মানসিকভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। মেয়েটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাকে উদ্ধার এবং যথাযথ তত্ত্বাবধানে ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
আবেদনে অভিযুক্ত হিসেবে ফরিদ হোসেন ফাহাদ, মারজাহান বেগম, মোস্তাফিজুর রহমান মুন্না ও ফরিদা আক্তার ভুলির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, আবেদনে বর্ণিত ঘটনাটি সত্য কি না, মেয়েটি বর্তমানে কোথায় এবং তার অবস্থান ও নিরাপত্তা কী—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়। অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত কী আদেশ দেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী ব্যবস্থা নেয়, তা পরবর্তী কার্যক্রমে জানা যাবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারার বিধান অনুযায়ী পুলিশি তল্লাশির মাধ্যমে মেয়েটিকে উদ্ধার করে তার পিতা আবু তারেক মোল্লার তত্ত্বাবধানে দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে তল্লাশির সম্ভাব্য স্থান হিসেবে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানাধীন জঙ্গিমনোরাজপুর এলাকার একটি বাড়ির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।