ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকার পরকীয়ার বলি স্বামী

  • আপডেট সময় : ১২:২১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষিকা আয়েশা খাতুন ও একই কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল জলিলের সাথে পরকীয়ায় জড়িত হয়ে স্বামীকে তালাক দিয়েছে স্ত্রী আয়েশা খাতুন। বিষয়টি কলেজের ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকলের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং উক্ত স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল জলিল ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আয়েশা খাতুনের দীর্ঘদিনের পরকীয়ায় সব হারিয়ে নিঃস্ব স্বামী মো. আবুল ফারাহ পাটোয়ারী। গত ১৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী মো. আবুল ফারাহ পাটোয়ারী। যা এখন ডিবিতে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন – এবিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ ও কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতির কাছেও অভিযোগ করা হয়েছে, কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছি।

জানা গেছে, আয়েশা খাতুন স্বামীকে তালাক দেয়ার আগে কৌশলে তার কাছ থেকে নগদ অর্থ ও কয়েক কোটি টাকা সম্পত্তি লিখে নিয়েছেন। সকল সম্পত্তি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মো. আবুল ফারাহ পাটোয়ারী। তিনি বলেন – ২৬ মে ২০০০ তারিখে আমাদের বিবাহ হয়। আমাদের সুখের সংসারকে আলোকিত করে দুইজন পূত্র সন্তানের জন্ম হয়। একজন দায়িত্ববান স্বামী হিসেবে আমাদের সংসারের যাবতীয় ব্যয়ভার আমি যথাযথভাবে বহন করতে থাকি এবং আমার স্ত্রীর পিতৃ পরিবারের অসহায়ত্ব দেখে তাদেরও ভরণপোষণের দায়িত্ব গ্রহণ করি। এমনকি আয়েশা খাতুন-এর বিএসসি (অনার্স) এবং এমএসসির সকল খরচও আমি বহন করি। ২০০৯ সালে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে খণ্ডকালীন প্রভাষক হিসেবে আমার সাবেক স্ত্রী চাকুরি পায়। এছাড়া ২০০৯ এবং ২০১২ সালে স্থায়ী চাকরির জন্য আবেদন করলেও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। কিন্তু ২০১৫ সালে চাকরির বয়স অতিক্রান্ত হওয়ায় আয়েশা খাতুন তার পিতার মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে উক্ত কলেজে স্থায়ী পদের চাকরির পরীক্ষায় অসাধু উপায়ে ও তৎকালীন শিক্ষক প্রতিনিধি মো. বাকাবিল্লাহ-এর অবৈধ সহযোগিতায় নিয়োগ পরীক্ষায় পাস করে উক্ত কলেজে স্থায়ী প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন।এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের বদৌলতেই তার পিতা আমার সাবেক শ্বশুর মো. রফিকুল ইসলাম মাসে ২০,০০০/- করে ভাতা পান এবং তার ভাই আমার সাবেক শ্যালক সাইদুর রহমান কাউসার সোনালি ব্যাংক ইমামগঞ্জ শাখায় চাকরি করেন।

তিনি আরো বলেন, স্থায়ী চাকরিতে যোগদান করার পরেই আমার সাবেক স্ত্রী আয়েশা খাতুনের স্বরুপ বদলাতে থাকে এবং নানাবিধ চাহিদাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। তার আচরণে আমার সন্দেহ হলে আমি বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকি। একপর্যায়ে জানতে পারি আমার ছেলেদের ইংরেজি শিক্ষক ও ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল জলিলের সাথে আমার স্ত্রী আয়েশা খাতুন পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে।যা ব্যাপক আকার ধারণ করে ২০২০ সালে কলেজে কোয়ার্টারে উঠলে। আমি কয়েকদিন আমার স্ত্রীর সাথে আব্দুল জলিলকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পাই। এবং বুঝতে পারি আমার স্ত্রী আয়েশা খাতুন আব্দুল জলিলের সাথে গোপন অভিসারে লিপ্ত। পরে পারিবারিকভাবে সালিশ দরবার হলে সে তখন ছলচাতুরির আশ্রয় নেয় এবং ডেমরার মাতুয়াইল মৌজায় আমার নামে পূর্বেই ক্রয়কৃত ৪.১২৫ শতাংশ জমি তার নামে রেজিস্ট্রি করে দিলে আব্দুল জলিলের সাথে আর সম্পর্ক রাখবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। আমাদের মান-সম্মান, সংসারের সুখ-শান্তি ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে সরল বিশ্বাসে উক্ত জমি গত আগস্ট ২৭, ২০২০ তারিখে ৪৩৯৫ নং হেবা দলিল মূলে তার নামে রেজিস্ট্রি করে দিই। দলিল দেওয়ার পরে তার আসল চরিত্র ফুটে ওঠে। সে আমার সাথে আরো মারাত্মক খারাপ আচরণ শুরু করে, যা এক সময় নির্যাতনের চরম পর্যায়ে পৌঁছে। এরই এক পর্যায়ে আমার নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্রসহ সকল কিছু (যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২০ লক্ষ টাকা) কুক্ষিগত করে গত ১৯ অক্টোবর ২০২২ সালে আমাকে ডিভোর্স দিয়ে এক কাপড়ে বাসা হতে বের করে দেয়। বর্তমানে আমি স্ত্রী, সন্তান, সম্পদ সব হারিয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছি। আমি আমার সাবেক স্ত্রী দ্বারা প্রতারিত এবং নির্যাতিত।

এব্যাপারে শিক্ষক আব্দুল জলিল ও শিক্ষিকা আয়েশা খাতুনের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করেও নেয়া সম্ভব হয়নি। তাদেরকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকার পরকীয়ার বলি স্বামী

আপডেট সময় : ১২:২১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষিকা আয়েশা খাতুন ও একই কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল জলিলের সাথে পরকীয়ায় জড়িত হয়ে স্বামীকে তালাক দিয়েছে স্ত্রী আয়েশা খাতুন। বিষয়টি কলেজের ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকলের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং উক্ত স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল জলিল ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আয়েশা খাতুনের দীর্ঘদিনের পরকীয়ায় সব হারিয়ে নিঃস্ব স্বামী মো. আবুল ফারাহ পাটোয়ারী। গত ১৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী মো. আবুল ফারাহ পাটোয়ারী। যা এখন ডিবিতে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন – এবিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ ও কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতির কাছেও অভিযোগ করা হয়েছে, কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছি।

জানা গেছে, আয়েশা খাতুন স্বামীকে তালাক দেয়ার আগে কৌশলে তার কাছ থেকে নগদ অর্থ ও কয়েক কোটি টাকা সম্পত্তি লিখে নিয়েছেন। সকল সম্পত্তি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মো. আবুল ফারাহ পাটোয়ারী। তিনি বলেন – ২৬ মে ২০০০ তারিখে আমাদের বিবাহ হয়। আমাদের সুখের সংসারকে আলোকিত করে দুইজন পূত্র সন্তানের জন্ম হয়। একজন দায়িত্ববান স্বামী হিসেবে আমাদের সংসারের যাবতীয় ব্যয়ভার আমি যথাযথভাবে বহন করতে থাকি এবং আমার স্ত্রীর পিতৃ পরিবারের অসহায়ত্ব দেখে তাদেরও ভরণপোষণের দায়িত্ব গ্রহণ করি। এমনকি আয়েশা খাতুন-এর বিএসসি (অনার্স) এবং এমএসসির সকল খরচও আমি বহন করি। ২০০৯ সালে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে খণ্ডকালীন প্রভাষক হিসেবে আমার সাবেক স্ত্রী চাকুরি পায়। এছাড়া ২০০৯ এবং ২০১২ সালে স্থায়ী চাকরির জন্য আবেদন করলেও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। কিন্তু ২০১৫ সালে চাকরির বয়স অতিক্রান্ত হওয়ায় আয়েশা খাতুন তার পিতার মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে উক্ত কলেজে স্থায়ী পদের চাকরির পরীক্ষায় অসাধু উপায়ে ও তৎকালীন শিক্ষক প্রতিনিধি মো. বাকাবিল্লাহ-এর অবৈধ সহযোগিতায় নিয়োগ পরীক্ষায় পাস করে উক্ত কলেজে স্থায়ী প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন।এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের বদৌলতেই তার পিতা আমার সাবেক শ্বশুর মো. রফিকুল ইসলাম মাসে ২০,০০০/- করে ভাতা পান এবং তার ভাই আমার সাবেক শ্যালক সাইদুর রহমান কাউসার সোনালি ব্যাংক ইমামগঞ্জ শাখায় চাকরি করেন।

তিনি আরো বলেন, স্থায়ী চাকরিতে যোগদান করার পরেই আমার সাবেক স্ত্রী আয়েশা খাতুনের স্বরুপ বদলাতে থাকে এবং নানাবিধ চাহিদাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। তার আচরণে আমার সন্দেহ হলে আমি বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকি। একপর্যায়ে জানতে পারি আমার ছেলেদের ইংরেজি শিক্ষক ও ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল জলিলের সাথে আমার স্ত্রী আয়েশা খাতুন পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে।যা ব্যাপক আকার ধারণ করে ২০২০ সালে কলেজে কোয়ার্টারে উঠলে। আমি কয়েকদিন আমার স্ত্রীর সাথে আব্দুল জলিলকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পাই। এবং বুঝতে পারি আমার স্ত্রী আয়েশা খাতুন আব্দুল জলিলের সাথে গোপন অভিসারে লিপ্ত। পরে পারিবারিকভাবে সালিশ দরবার হলে সে তখন ছলচাতুরির আশ্রয় নেয় এবং ডেমরার মাতুয়াইল মৌজায় আমার নামে পূর্বেই ক্রয়কৃত ৪.১২৫ শতাংশ জমি তার নামে রেজিস্ট্রি করে দিলে আব্দুল জলিলের সাথে আর সম্পর্ক রাখবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। আমাদের মান-সম্মান, সংসারের সুখ-শান্তি ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে সরল বিশ্বাসে উক্ত জমি গত আগস্ট ২৭, ২০২০ তারিখে ৪৩৯৫ নং হেবা দলিল মূলে তার নামে রেজিস্ট্রি করে দিই। দলিল দেওয়ার পরে তার আসল চরিত্র ফুটে ওঠে। সে আমার সাথে আরো মারাত্মক খারাপ আচরণ শুরু করে, যা এক সময় নির্যাতনের চরম পর্যায়ে পৌঁছে। এরই এক পর্যায়ে আমার নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্রসহ সকল কিছু (যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২০ লক্ষ টাকা) কুক্ষিগত করে গত ১৯ অক্টোবর ২০২২ সালে আমাকে ডিভোর্স দিয়ে এক কাপড়ে বাসা হতে বের করে দেয়। বর্তমানে আমি স্ত্রী, সন্তান, সম্পদ সব হারিয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছি। আমি আমার সাবেক স্ত্রী দ্বারা প্রতারিত এবং নির্যাতিত।

এব্যাপারে শিক্ষক আব্দুল জলিল ও শিক্ষিকা আয়েশা খাতুনের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করেও নেয়া সম্ভব হয়নি। তাদেরকে ফোনে পাওয়া যায়নি।