মন্ত্রিসভায় চমক দেখাতে চান তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০৬:৩০:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। দলটি এককভাবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। একই দিনে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হতে পারে বলে জানা গেছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন এবং তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, এটা প্রায় নিশ্চিত। বিএনপি নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন ভোরের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরা তারেক রহমান এবার একটি ‘স্মার্ট ও জবাবদিহিমূলক’ সরকার গঠন করতে চান। তার মন্ত্রিসভায় নতুন মুখের পাশাপাশি পুরোনো মুখও স্থান পাবে, যা হবে ইনক্লুসিভ এবং ইউনিক।বিশ্লেষকদের মতে, চব্বিশোত্তর নতুন বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে দেশ পরিচালনা করতে হবে। সে জায়গা থেকে তারেক রহমান এবারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ প্রবীণ নেতাদের পাশাপাশি রাজপথের ত্যাগী এবং দক্ষ তরুণদের সংমিশ্রণ দেখা যেতে পারে। আর এটি হলে তারেক রহমানের জন্য সরকার ও দেশ পরিচালনা অত্যন্ত সহজ হবে। বর্তমানে সরকারের মন্ত্রণালয়-বিভাগ রয়েছে ৫৮টি।
তবে মন্ত্রীসভার আকার ছোট হবে। সদস্য সংখ্যা ৩০ জনের বেশি হবে না।
দুলু, রাজশাহী-২ আসনে নির্বাচিত বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, বগুড়া-৫ আসনে নির্বাচিত বিএনপি নেতা জি এম সিরাজ, হবিগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচিত ড. রেজা কিবরিয়া, সিলেট-৪ আসনে নির্বাচিত ও সিলেট সিটির সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মৌলভীবাজার-৩ আসনে নির্বাচিত সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের ছেলে নাসের রহমান, সিলেট-৩ আসনে নির্বাচিত ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ মালেক।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে নির্বাচিত বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, ভোলা-৩ আসনে নির্বাচিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, বরগুনা-২ আসনে নির্বাচিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, বরিশাল-১ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, ভোলা-১ আসনে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এবং পটুয়াখালী-৩ আসনে নির্বাচিত বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।
টেকনোক্র্যাট: বিএনপির মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট হিসেবে অন্তত ছয়জনের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক) হুমায়ুন কবির, বিএনপি চেয়ারম্যানের অন্যতম উপদেষ্টা ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও আমেরিকা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান গিয়াস আহমেদ এবং বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার।
জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি বা সংসদ সদস্য না হয়ে যারা মন্ত্রিসভায় স্থান পান বা মন্ত্রী হন, তাদের বলা হয় টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী। এ বিষয়ে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৬-এর ২ ধারায় বলা রয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগদান করবেন। তবে শর্ত থাকে যে, তাহাদের সংখ্যার অন্যূন নয়-দশমাংশ সংসদ সদস্যদের মধ্য হতে নিযুক্ত হবেন এবং অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে মনোনীত হতে পারবেন।’ মন্ত্রিসভা ৪০ জনের হলে সে হিসাবে টেকনোক্র্যাট কোটায় চারজনকে মন্ত্রী করা যাবে।
জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম সেলিম কালবেলাকে বলেন, ‘দীর্ঘ আন্দোলনের পর একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। এটি চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফসল, তাই বিএনপির মন্ত্রিসভায় চমক থাকাটা স্বাভাবিক। মন্ত্রিসভায় যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের রাখা না রাখার বিষয়টিও আলোচনা হচ্ছে। তবে নির্বাচনের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় নিজেদের দলের সংহতি বজায় রাখাই হবে তারেক রহমানের প্রথম চ্যালেঞ্জ। যারা শাসন নয়, মানুষের সেবক হিসেবে কাজ করবেন—এমন কাউকে নিয়ে বিএনপিকে মন্ত্রিসভা গঠন করতে হবে।



















