জার্মানিতে পাইপলাইনে তেল রপ্তানি বন্ধের পরিকল্পনা পুতিনের
- আপডেট সময় : ০৬:১৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জার্মানির দিকে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এর ফলে ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।বুধবার (২২ এপ্রিল) টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।রাশিয়া জানিয়েছে, আগামী ৯ দিনের মধ্যে দ্রুজবা পাইপলাইন বন্ধ করা হবে। এতে করে কাজাখস্তান থেকে ইউরোপে যাওয়া তেলের সরবরাহও ব্যাহত হবে। এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে জার্মানিতে। দেশটির পিসিকে রিফাইনারিতে ব্যবহৃত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১৭ শতাংশ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে আসে। এই রিফাইনারিই বার্লিন শহরের গাড়ির প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মান সরকার ইতোমধ্যে তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে। চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশের পরিবর্তে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছর দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ।বার্লিনের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত পিসিকে রিফাইনারি দেশটির অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র এবং এটি বার্লিন ও এর বিমানবন্দরের জন্য কেরোসিন ও হিটিং ফুয়েলের প্রধান সরবরাহকারী। এই রিফাইনারিটি আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি রোসনেফট পরিচালনা করত এবং রাশিয়ান তেলের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলার পর জার্মানি রাশিয়ার পরিবর্তে কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানি শুরু করে।দ্রুজবা পাইপলাইন বিশ্বের বৃহত্তম পাইপলাইন নেটওয়ার্কগুলোর একটি। এটি রাশিয়া ও কাজাখস্তান থেকে জার্মানি, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রে তেল সরবরাহ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পাইপলাইন বন্ধের সিদ্ধান্ত ইউরোপে জ্বালানি সংকট আরও বাড়াবে। ইতোমধ্যে ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে।
জার্মানির অর্থনীতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি বছরে দেশটির মূল্যস্ফীতি ২ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এটি ২০২৪ সালের ২ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেশি। বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ।
জার্মানির অর্থমন্ত্রী ক্যাথেরিনা রিচি বলেন, এ বছর প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার আবারও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক ধাক্কায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইরান যুদ্ধ জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি কমিশনার ড্যান জরজেনসেন বলেন, সামনে ইউরোপের জন্য ‘খুব কঠিন কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর’ অপেক্ষা করছে। তিনি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য জ্বালানি সহায়তা এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি ও বিকল্প শক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেন।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরল সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপে জেট ফুয়েলের মজুত দুই মাসেরও কম সময়ের জন্য থাকতে পারে। রয়টার্স জানিয়েছে, ক্রেমলিন কাজাখস্তান ও জার্মানিকে জানিয়েছে যে, আগামী ১ মে থেকে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।






















