ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী জাপানি কোম্পানিগুলো

  • আপডেট সময় : ০৮:৩৫:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে জাপানের জোরালো সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্যদিকে, বাংলাদেশে অনুকূল পরিবেশ থাকায় জাপানি কোম্পানিগুলো সেখানে বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের (জেবিপিএফএল) সভাপতি তারো আসো।সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ৩টায় টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসো প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দেন।সাক্ষাৎকালে তারো আসো বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশই তরুণ। দেশটিতে বর্তমানে বিরাজমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগের চমৎকার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এই ইতিবাচক পরিস্থিতিতে জাপানি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছে।এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে তার সরকার ইতোমধ্যে নানামুখী বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারও আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকার খাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয় তিনি বৈঠকে তুলে ধরেন।প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, ইপিএ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ প্রসারিত হবে। পাশাপাশি দেশের জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে জাপানের ধারাবাহিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে তারো আসোর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ভূমিকা ও অবদানের জন্য তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে জাপান সফরকালে তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিপরীতে তারো আসোও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার অতীত সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকাকালে তারো আসো সবসময়ই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছেন।

সৌজন্য সাক্ষাতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ (পিপল-টু-পিপল কনট্যাক্ট) বাড়ানোর ব্যাপারে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে জাপানের প্রতিনিধিদলে তারো আসোর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দেশটির সাবেক মন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা, ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহণ ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিসহ দেশটির জাতীয় সংসদের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী জাপানি কোম্পানিগুলো

আপডেট সময় : ০৮:৩৫:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে জাপানের জোরালো সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্যদিকে, বাংলাদেশে অনুকূল পরিবেশ থাকায় জাপানি কোম্পানিগুলো সেখানে বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের (জেবিপিএফএল) সভাপতি তারো আসো।সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ৩টায় টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসো প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দেন।সাক্ষাৎকালে তারো আসো বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশই তরুণ। দেশটিতে বর্তমানে বিরাজমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগের চমৎকার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এই ইতিবাচক পরিস্থিতিতে জাপানি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছে।এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে তার সরকার ইতোমধ্যে নানামুখী বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারও আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকার খাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয় তিনি বৈঠকে তুলে ধরেন।প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, ইপিএ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ প্রসারিত হবে। পাশাপাশি দেশের জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে জাপানের ধারাবাহিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে তারো আসোর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ভূমিকা ও অবদানের জন্য তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে জাপান সফরকালে তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিপরীতে তারো আসোও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার অতীত সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকাকালে তারো আসো সবসময়ই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছেন।

সৌজন্য সাক্ষাতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ (পিপল-টু-পিপল কনট্যাক্ট) বাড়ানোর ব্যাপারে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে জাপানের প্রতিনিধিদলে তারো আসোর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দেশটির সাবেক মন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা, ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহণ ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিসহ দেশটির জাতীয় সংসদের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যরা।