ঢাকা ০৩:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আফগান অভিবাসীদের দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

  • আপডেট সময় : ০৮:২৬:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আফগান অভিবাসীদের একাংশকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মার্কিন এক কর্মকর্তা এবং সাবেক সেনাসদস্য ও অধিকারকর্মীদের একটি জোট এ তথ্য জানিয়েছে। ২০২১ সালে তালেবানের ক্ষমতা দখল ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তান ছেড়ে আসা অনেকেই এ সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছেন।আফগান অভিবাসীদের সহায়তাকারী সংগঠন ‘আফগান ইভাক’-এর প্রধান শন ভ্যানডাইভার বলেন, যাদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর দেশ ছেড়েছিলেন। তাদের কেউ কেউ এমন ব্যক্তির ভাই ও সন্তান, যাদের পরিবারের সদস্যরা মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছেন। ভ্যানডাইভারের আশঙ্কা, তালেবান এসব পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করার যথেষ্ট কারণ খুঁজে পেতে পারে।নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫০ জনের বেশি আফগান অভিবাসীকে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। একসঙ্গে এতসংখ্যক আফগানকে বহিষ্কারের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় উদ্যোগ হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে কয়েক ডজন আফগান অভিবাসীকে আটক করেছে। তাদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম দফার ফ্লাইট সোমবারের মধ্যেই পরিচালিত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিবাসীদের পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে পাঠানো হবে। তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় সরাসরি আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারছে না ওয়াশিংটন।

ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান ও বহিষ্কার কার্যক্রমের লক্ষ্য দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা। তবে মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হচ্ছে। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে এবং বর্ণগত পরিচয়ের ভিত্তিতে হয়রানির আশঙ্কাও বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, অভিযানসংক্রান্ত নিরাপত্তার কারণে ভবিষ্যতে কাদের ফেরত পাঠানো হবে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করবে না।

ভ্যানডাইভার মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আফগানদের সাময়িক সুরক্ষিত মর্যাদা দেওয়ার জন্য আইন পাস করতে। এর মাধ্যমে তাদের আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে, ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত দুই লাখ নয়, ২০ লাখের বেশি আফগান নাগরিককে পাকিস্তান থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আফগান অভিবাসীদের দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

আপডেট সময় : ০৮:২৬:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আফগান অভিবাসীদের একাংশকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মার্কিন এক কর্মকর্তা এবং সাবেক সেনাসদস্য ও অধিকারকর্মীদের একটি জোট এ তথ্য জানিয়েছে। ২০২১ সালে তালেবানের ক্ষমতা দখল ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তান ছেড়ে আসা অনেকেই এ সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছেন।আফগান অভিবাসীদের সহায়তাকারী সংগঠন ‘আফগান ইভাক’-এর প্রধান শন ভ্যানডাইভার বলেন, যাদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর দেশ ছেড়েছিলেন। তাদের কেউ কেউ এমন ব্যক্তির ভাই ও সন্তান, যাদের পরিবারের সদস্যরা মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছেন। ভ্যানডাইভারের আশঙ্কা, তালেবান এসব পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করার যথেষ্ট কারণ খুঁজে পেতে পারে।নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫০ জনের বেশি আফগান অভিবাসীকে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। একসঙ্গে এতসংখ্যক আফগানকে বহিষ্কারের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় উদ্যোগ হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে কয়েক ডজন আফগান অভিবাসীকে আটক করেছে। তাদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম দফার ফ্লাইট সোমবারের মধ্যেই পরিচালিত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিবাসীদের পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে পাঠানো হবে। তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় সরাসরি আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারছে না ওয়াশিংটন।

ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান ও বহিষ্কার কার্যক্রমের লক্ষ্য দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা। তবে মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হচ্ছে। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে এবং বর্ণগত পরিচয়ের ভিত্তিতে হয়রানির আশঙ্কাও বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, অভিযানসংক্রান্ত নিরাপত্তার কারণে ভবিষ্যতে কাদের ফেরত পাঠানো হবে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করবে না।

ভ্যানডাইভার মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আফগানদের সাময়িক সুরক্ষিত মর্যাদা দেওয়ার জন্য আইন পাস করতে। এর মাধ্যমে তাদের আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে, ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত দুই লাখ নয়, ২০ লাখের বেশি আফগান নাগরিককে পাকিস্তান থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স