প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের অনুপস্থিতিতে সংসদীয় দায়িত্বে থাকবেন যারা
- আপডেট সময় : ০৬:২২:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম সুচারুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অন্য মন্ত্রীদের অনুপস্থিতিতে সংসদীয় দায়িত্ব পালনের জন্য দপ্তর বণ্টন করে সরকার একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার কার্যালয়ের কার্যক্রম তদারকি করবেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সংসদীয় কার্যাবলি সম্পাদনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে। এছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আইন ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিকল্প হিসেবেও রাখা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাজ সংসদে সঠিকভাবে উপস্থাপনের জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। যেখানে মন্ত্রী এবং বিকল্প মন্ত্রী— উভয়ই যদি একই সময়ে অনুপস্থিত থাকেন, তবে সংসদীয় কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করবেন। তার অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সেসব মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রশ্নোত্তর প্রদানসহ যাবতীয় সংসদীয় কাজ সম্পন্ন করার এখতিয়ার পাবেন।গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিকল্প হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, জাতীয় সংসদ সচিবালয় এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংসদীয় কাজের জন্য আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় দায়িত্বে বিকল্প হিসেবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং পরিকল্পনায় থাকবেন প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বিকল্পের মধ্যে রয়েছে— পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং শিল্প, বাণিজ্য ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বিকল্প হিসেবে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের নাম। শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বিকল্প হিসেবে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে নির্ধারণ করা হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রতিমন্ত্রী এমএ মুহিত বিকল্প দায়িত্ব পালন করবেন।
জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্রের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীর অনুপস্থিতিতে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং আইনমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারের এই কৌশলগত বিন্যাস জাতীয় সংসদে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জনগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের দ্রুত উত্তর নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
এই আদেশের ফলে সংসদীয় অধিবেশনে যে কোনো পরিস্থিতিতে সরকারের প্রতিনিধিত্ব ও প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।






















