ঢাকা ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাতিলের তালিকায় উঠছে গণভোটসহ ২০ অধ্যাদেশ

  • আপডেট সময় : ০৫:৪৮:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলনের পর জাতীয় সংসদ কার্যকর না থাকায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জারি করে ১৩৩টি অধ্যাদেশ। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোট অধ্যাদেশসহ অন্তত ২০টি অধ্যাদেশের কপাল পুড়ছে। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এসব অধ্যাদেশের অনুমোদন পাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি এসব অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ অন্ধকার হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিশেষ কমিটি এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারলেও বিষয়গুলো নিয়ে সংসদের বৈঠকে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি যেসব অধ্যাদেশ প্রথম অধিবেশনে পাস করা সম্ভব হচ্ছে না সেগুলো নতুন করে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫ ছাড়াও বাতিল করার সুপারিশের তালিকায় রয়েছে বিচার বিভাগের জন্য করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত করে রাজস্ব খাতকে দুভাগ করে করা ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ-২০২৫, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, অর্থ অধ্যাদেশ-২০২৫, অর্থ-সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, দ্য এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট (আমেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স-২০২৫, অর্থ সংক্রান্ত কতিপয় (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫ এবং তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬।’কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, অধ্যাদেশ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং ‘সাংবিধানিকতা’ এ দুই বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ-২০২৬সহ জুলাই সুরক্ষা’-সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে সব সদস্য একমত হয়েছেন এবং এগুলো হুবহু সংসদে উপস্থাপন করা হবে। তারা আরও জানান, ১৩৩টি অধ্যাদেশকে তিনটি দিক বিবেচনায় যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রথমত, কিছু অধ্যাদেশ যেভাবে আছে, সেভাবেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিল আকারে এনে পাস করবে। দ্বিতীয়ত, কিছু অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ বিল উত্থাপন করা হবে। আর তৃতীয়ত, যেসব বিষয়ে একমত হওয়া যাবে না, সেগুলো এ অধিবেশনে ‘ল্যাপস’ (বাতিল) হয়ে যাবে; প্রয়োজনে পরবর্তী অধিবেশনে নতুন বিল আকারে হিসেবে আসবে। সূত্র জানিয়েছে, ২০টি অধ্যাদেশের ব্যাপারে একমত হতে পারেনি কমিটি। ফলে এগুলো বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাড়াহুড়ো করে অনেক অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এসব অধ্যাদেশে অনেক ত্রুটিবিচ্যুতি রয়েছে। সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠকে এসব ত্রুটিবিচ্যুতির বিষয়গুলো উঠে এসেছে। সে কারণে স্পর্শকাতর এসব অধ্যাদেশের ব্যাপারে আরও খতিয়ে দেখে সরকার পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেবে। সে কারণে সংসদীয় বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে আপাতত এসব অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হচ্ছে। প্রয়োজন মনে করলে সরকার পরবর্তী সময়ে এসব অধ্যাদেশের ব্যাপারে নতুন করে চিন্তা করবে। কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন জানিয়েছেন, যেসব অধ্যাদেশের বিষয়ে বিশেষ কমিটি ঐকমত্য হতে পারবে না, তা বাতিলের সুপারিশ করবে। সেগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে। তবে কত অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হচ্ছে, সে ব্যাপারে তিনি কিছুই বলেননি। বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর এ ব্যাপারে জানা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাতিলের তালিকায় উঠছে গণভোটসহ ২০ অধ্যাদেশ

আপডেট সময় : ০৫:৪৮:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলনের পর জাতীয় সংসদ কার্যকর না থাকায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জারি করে ১৩৩টি অধ্যাদেশ। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোট অধ্যাদেশসহ অন্তত ২০টি অধ্যাদেশের কপাল পুড়ছে। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এসব অধ্যাদেশের অনুমোদন পাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি এসব অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ অন্ধকার হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিশেষ কমিটি এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারলেও বিষয়গুলো নিয়ে সংসদের বৈঠকে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি যেসব অধ্যাদেশ প্রথম অধিবেশনে পাস করা সম্ভব হচ্ছে না সেগুলো নতুন করে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫ ছাড়াও বাতিল করার সুপারিশের তালিকায় রয়েছে বিচার বিভাগের জন্য করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত করে রাজস্ব খাতকে দুভাগ করে করা ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ-২০২৫, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, অর্থ অধ্যাদেশ-২০২৫, অর্থ-সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, দ্য এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট (আমেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স-২০২৫, অর্থ সংক্রান্ত কতিপয় (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫ এবং তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬।’কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, অধ্যাদেশ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং ‘সাংবিধানিকতা’ এ দুই বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ-২০২৬সহ জুলাই সুরক্ষা’-সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে সব সদস্য একমত হয়েছেন এবং এগুলো হুবহু সংসদে উপস্থাপন করা হবে। তারা আরও জানান, ১৩৩টি অধ্যাদেশকে তিনটি দিক বিবেচনায় যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রথমত, কিছু অধ্যাদেশ যেভাবে আছে, সেভাবেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিল আকারে এনে পাস করবে। দ্বিতীয়ত, কিছু অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ বিল উত্থাপন করা হবে। আর তৃতীয়ত, যেসব বিষয়ে একমত হওয়া যাবে না, সেগুলো এ অধিবেশনে ‘ল্যাপস’ (বাতিল) হয়ে যাবে; প্রয়োজনে পরবর্তী অধিবেশনে নতুন বিল আকারে হিসেবে আসবে। সূত্র জানিয়েছে, ২০টি অধ্যাদেশের ব্যাপারে একমত হতে পারেনি কমিটি। ফলে এগুলো বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাড়াহুড়ো করে অনেক অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এসব অধ্যাদেশে অনেক ত্রুটিবিচ্যুতি রয়েছে। সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠকে এসব ত্রুটিবিচ্যুতির বিষয়গুলো উঠে এসেছে। সে কারণে স্পর্শকাতর এসব অধ্যাদেশের ব্যাপারে আরও খতিয়ে দেখে সরকার পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেবে। সে কারণে সংসদীয় বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে আপাতত এসব অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হচ্ছে। প্রয়োজন মনে করলে সরকার পরবর্তী সময়ে এসব অধ্যাদেশের ব্যাপারে নতুন করে চিন্তা করবে। কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন জানিয়েছেন, যেসব অধ্যাদেশের বিষয়ে বিশেষ কমিটি ঐকমত্য হতে পারবে না, তা বাতিলের সুপারিশ করবে। সেগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে। তবে কত অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হচ্ছে, সে ব্যাপারে তিনি কিছুই বলেননি। বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর এ ব্যাপারে জানা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।