ঢাকা ০৮:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওষুধ মাফিয়া লিটন নন্দী এখন শত কোটি টাকার মালিক

  • আপডেট সময় : ০১:০২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি :
নন্দী ড্রাগ হাউসের মালিক লিটন নন্দী। মিটফোর্ড কেন্দ্রীক ওষুধ বাণিজ্যের মাফিয়া হিসেবে বেশ পরিচিত। ভেজাল ও নকল ওষুধ বিক্রি করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। স্বৈরাচার সরকার আওয়ামীলীগের সক্রিয় এ নেতা দেশের গন্ডি পেরিয়ে কানাডায় পাচার করেছেন শত কোটি টাকা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের স্তপ থাকলেও প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাহিরে রয়েছেন এই মাফিয়া।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, মিটফোর্ড ওষুধ বাজারকে কেন্দ্র করে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে বরাদ্দকৃত ওষুধ, এনজিও প্রকল্পের ওষুধ এবং অনুমোদনহীন ওষুধের অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন লিটন নন্দী ও তার সিন্ডিকেট। অবৈধ বাণিজ্যের কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং নিষিদ্ধ ওষুধ মজুদ ও বিক্রির দায়ে ৪১ দিন কারাগারে ছিলেন। জেল বেরিয়ে আবারো নকল ওষুধ সিন্ডিকেট বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বনে গেছেন শত কোটির টাকার মালিক।

মাই টিভি’র অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে লিটন নন্দী নানা অপকর্ম। সরকারি ও এনজিওর ওষুধ লোকাল বাজারে বিক্রি নিষিদ্ধ থাকলে তা মানছেন না লিটন নন্দী। এসব ওষুধ নামমাত্র টাকা কিনে চড়া দামে সরবরাহ করছেন বিভিন্ন বাজারে। এছাড়া তার প্রতিষ্ঠান রেডিসান ল্যাবরেটরিজে নকল ওষুধ উৎপাদন করার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি লিটন নন্দী চতুরাতার সঙ্গে ভ্যাট ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে জেনারেল ফার্মার ঔষধের মজুদনসহ টাপেন্ডাটল মাদক বিক্রি করে যাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে আরো দেখা গেছে, সরকারি বরাদ্দকৃত ওষুধ, এনজিও কর্তৃক বিতরণের জন্য নির্ধারিত ওষুধ ,অন্যান্য বিশেষ প্রকল্পভিত্তিক ওষুধ ও জেনারেল ফার্মার ভ্যাট ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকার মেডিসিন সংগ্রহ করে মিটফোর্ড বাজারে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হচ্ছে । এর নিয়ন্ত্রণ মূল্যে রয়েছে লিটন নন্দী ও ব্যবসায়ি পার্টনার হাসান গাজ্জালি যৌথ প্রতিষ্ঠান জিএস ফার্মার মাধ্যমে। ঔষুধগুলোভ্যাট ট্যাক্স ফ্রি হওয়ার সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন লিটন নন্দী । সরকারে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কানাডায় করেছেন অর্থ পাচার । কানাডার বেগম পাড়ার তার স্ত্রীর নামে একটি বাড়িও কিনেছেন তিনি ।

রাজস্ব ফাঁকির বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী এ প্রতিবেদক জানান, উক্ত ওষুধ ব্যবসায়ির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া বিষয়টি ভ্যাট গোয়েন্দা ইউনিটকে অবগত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি।

বিদেশে অর্থ পাচারে বিষয়ে দুর্নীতি কমিশন (দুদক) এর মহাপরিচালক মোতাহার হোসেন এ প্রতিবেদককে অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়ে লিটন নন্দী হোয়াটসআপ এ একাধিকবার কল দিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ওষুধ মাফিয়া লিটন নন্দী এখন শত কোটি টাকার মালিক

আপডেট সময় : ০১:০২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি :
নন্দী ড্রাগ হাউসের মালিক লিটন নন্দী। মিটফোর্ড কেন্দ্রীক ওষুধ বাণিজ্যের মাফিয়া হিসেবে বেশ পরিচিত। ভেজাল ও নকল ওষুধ বিক্রি করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। স্বৈরাচার সরকার আওয়ামীলীগের সক্রিয় এ নেতা দেশের গন্ডি পেরিয়ে কানাডায় পাচার করেছেন শত কোটি টাকা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের স্তপ থাকলেও প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাহিরে রয়েছেন এই মাফিয়া।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, মিটফোর্ড ওষুধ বাজারকে কেন্দ্র করে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে বরাদ্দকৃত ওষুধ, এনজিও প্রকল্পের ওষুধ এবং অনুমোদনহীন ওষুধের অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন লিটন নন্দী ও তার সিন্ডিকেট। অবৈধ বাণিজ্যের কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং নিষিদ্ধ ওষুধ মজুদ ও বিক্রির দায়ে ৪১ দিন কারাগারে ছিলেন। জেল বেরিয়ে আবারো নকল ওষুধ সিন্ডিকেট বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বনে গেছেন শত কোটির টাকার মালিক।

মাই টিভি’র অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে লিটন নন্দী নানা অপকর্ম। সরকারি ও এনজিওর ওষুধ লোকাল বাজারে বিক্রি নিষিদ্ধ থাকলে তা মানছেন না লিটন নন্দী। এসব ওষুধ নামমাত্র টাকা কিনে চড়া দামে সরবরাহ করছেন বিভিন্ন বাজারে। এছাড়া তার প্রতিষ্ঠান রেডিসান ল্যাবরেটরিজে নকল ওষুধ উৎপাদন করার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি লিটন নন্দী চতুরাতার সঙ্গে ভ্যাট ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে জেনারেল ফার্মার ঔষধের মজুদনসহ টাপেন্ডাটল মাদক বিক্রি করে যাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে আরো দেখা গেছে, সরকারি বরাদ্দকৃত ওষুধ, এনজিও কর্তৃক বিতরণের জন্য নির্ধারিত ওষুধ ,অন্যান্য বিশেষ প্রকল্পভিত্তিক ওষুধ ও জেনারেল ফার্মার ভ্যাট ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকার মেডিসিন সংগ্রহ করে মিটফোর্ড বাজারে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হচ্ছে । এর নিয়ন্ত্রণ মূল্যে রয়েছে লিটন নন্দী ও ব্যবসায়ি পার্টনার হাসান গাজ্জালি যৌথ প্রতিষ্ঠান জিএস ফার্মার মাধ্যমে। ঔষুধগুলোভ্যাট ট্যাক্স ফ্রি হওয়ার সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন লিটন নন্দী । সরকারে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কানাডায় করেছেন অর্থ পাচার । কানাডার বেগম পাড়ার তার স্ত্রীর নামে একটি বাড়িও কিনেছেন তিনি ।

রাজস্ব ফাঁকির বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী এ প্রতিবেদক জানান, উক্ত ওষুধ ব্যবসায়ির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া বিষয়টি ভ্যাট গোয়েন্দা ইউনিটকে অবগত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি।

বিদেশে অর্থ পাচারে বিষয়ে দুর্নীতি কমিশন (দুদক) এর মহাপরিচালক মোতাহার হোসেন এ প্রতিবেদককে অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়ে লিটন নন্দী হোয়াটসআপ এ একাধিকবার কল দিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।